শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও ব্লাকমেইলিং মামলায় ডাক্তার কারাগারে

লেখক:
প্রকাশ: ১০ ঘন্টা আগে

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফসান জানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শ্যালিকাকে ধর্ষণের মামলায় রোববার (২৪ মে) সকালে যশোর শহরের উপশহর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান জানান, ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে তার শ্যালিকা মণিরামপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে নজরদারি বাড়ায়। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সকালে যশোর শহরের উপশহরের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে পড়াশোনা এবং নিজের সন্তানদের দেখাশোনার কথা বলে ডা. রাফসান জানি তার শ্যালিকাকে যশোরে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের সেই দৃশ্য গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে তা দিয়ে ভুক্তভোগীকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন।

অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন ও আশ্বাস দিয়ে মণিরামপুর উপজেলা সদরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ভুক্তভোগীকে সেখানে রাখেন ওই চিকিৎসক। সেখানেও দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী এজাহারে উল্লেখ করেন। নিরুপায় হয়ে অবশেষে ভুক্তভোগী মণিরামপুর থানায় মামলা করেন।

ডা. রাফসান জানিকে নিয়ে সৃষ্ট ঘটনা বেশ কিছুদিন ধরে যশোর এলাকায় বেশ আলোচিত হচ্ছে। পাল্টাপাল্টি মামলা এবং একাধিক সংবাদ সম্মেলনের ঘটনাও ঘটেছে।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ জানান, ধর্ষণ মামলায় চিকিৎসক রাফসান জানিকে যশোর শহরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।