দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ এবং সবুজ অর্থায়নকে উৎসাহিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বড় ধরনের শুল্ক ও করছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ বিকেলে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটে কৃষি, আইটি, পরিবেশবান্ধব পরিবহন এবং জনস্বাস্থ্য খাতকে চাঙ্গা করতে শতাধিক পণ্য ও সেবায় কর-শুল্ক কমানো বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ডিজিটাল অর্থনীতি ও তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া কম্পিউটারের এসএসডি (SSD) আমদানির ক্ষেত্রে মাত্র ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ব্যতিরেকে বাকি সব ধরনের শুল্ক-কর তুলে নেওয়া হচ্ছে। কম্পিউটার প্রিন্টার ও পোর্টেবল ডেটা প্রসেসিং মেশিনের অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ এবং পস (POS) মেশিনের আমদানি শুল্ক ১০ থেকে ৫ শতাংশে নামানো হচ্ছে।
পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির করভার উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। ২৫ হাজার ডলার মূল্যের ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) মোট করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৪ শতাংশ এবং ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের ওপর থাকা ৩৯.৭৫ শতাংশ করভার সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৮০০ সিসি পর্যন্ত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির করভার ৯৩.১৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭৩.৪৩ শতাংশে নামানো হচ্ছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সোলার খাতের সুরক্ষায় সৌরবিদ্যুৎ শিল্পের বিভিন্ন উপকরণের ওপর শুল্কছাড় অব্যাহত রাখা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৫ শতাংশ কর রেয়াত এবং লিথিয়াম-আয়ন ও সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনের কাঁচামালের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ মওকুফ করা হচ্ছে।
মিডিয়া ও ক্রিয়েটিভ খাতের জন্য উচ্চপ্রযুক্তির সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনের মতো মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর মধ্যে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার এবং ব্লাড টিউবিং সেটের ওপর ভ্যাট ও অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। হার্টের স্টেন্ট (রিং) এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের সরবরাহ পর্যায়ে থাকা ১০ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কৃষি খাতের সুরক্ষায় কীটনাশক ও বালাইনাশক উৎপাদনের ৩৬টি কাঁচামালের ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং জিংক সালফেট সার উৎপাদনের কাঁচামালের আমদানি শুল্ক শূন্য করা হয়েছে। এছাড়া সোনা ও সোনার গহনার ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা বৈধ সোনা আমদানিকে উৎসাহিত করবে।
