সরিয়ে দেওয়া হলো ডিবির যুগ্ম কমিশনার নাসিরুলকে

লেখক:
প্রকাশ: ১২ minutes ago

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। তাকে গোয়েন্দা-দক্ষিণ ও অ্যাডমিন থেকে সরিয়ে প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে বদলি করা হয়।

আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলামকে ডিএমপির প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগে পদায়ন করা হলো। এ নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দলটির প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি ও বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের গ্রেফতারে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের চাপ ও সংকটে ভেঙে পড়া পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠনে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন নাসিরুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সেই কঠিন সময়ে বাহিনীর মনোবল ফিরিয়ে আনতে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা ও নির্বাচন বানচালের নানা আশঙ্কার মধ্যেও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন নাসিরুল ইসলাম। বিশেষ করে নির্বাচনের ঠিক আগে জামায়াত আমিরের কথিত এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সরোয়ারকে গ্রেফতারের ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

 

তখন দাবি উঠেছিল, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে ওই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে ডিএমপির একজন সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে নাসিরুল ইসলামসহ ডিবির তিন যুগ্ম কমিশনারের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয় বলে সূত্র জানায়। বিষয়টি তখন পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। পরবর্তীতে এই তিন কর্মকর্তাকে ধীরে ধীরে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছিল বলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

ডিবির দায়িত্ব পালনকালে নাসিরুল ইসলাম ও তার টিম ঢাকায় সংঘটিত বহু ক্লুলেস ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেন। চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড, অপহরণসহ বিভিন্ন জটিল মামলার তদন্তে তার নেতৃত্বাধীন টিমের সাফল্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরেও প্রশংসিত হয়।

হঠাৎ এমন একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তার বদলিতে ডিবির চলমান অপারেশনাল কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে চলমান তদন্ত, গোয়েন্দা তৎপরতা ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ে সাময়িক ধীরগতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।