মিয়ানমার জেনারেলদের বিচারে উদ্যোগ নেবে ‍যুক্তরাজ্য

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তিনি বলেন, গণহত্যার অভিযোগের সুরাহায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাজ্য উদ্যোগ নেবে।

পার্লামেন্টের নিয়মিত অধিবেশনে গতকাল মঙ্গলবার এমপিদের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে অবহিত করতে গিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথবিষয়ক মন্ত্রী জেরেমি হান্ট এসব কথা বলেন। হান্ট বলেন, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের ‘বিশেষ দায়িত্ব’ রয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে তিনি বড় ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করবেন বলে জানান।

হান্ট বলেন, জাতিসংঘ যাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নেতাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের জন্য সুপারিশ করে, সে বিষয়ে সমর্থন দিতে তিনি সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আহ্বান জানাবেন। তিনি জানান, জাতিসংঘের পরবর্তী অধিবেশনে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করবেন। তবে মিয়ানমারের অপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে তুলতে জাতিসংঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের অনুমোদন লাগবে। সেই অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না, তা এখনই পরিষ্কার নয়।

জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ থাকার কারণে দেশটি জাতিসংঘের উদ্যোগে বাধা দিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগেও বাধা দেবে বলে আশঙ্কা।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতিগত নিধন বিশ্বের যেখানে যে প্রকারেরই সংঘটিত হোক না কেন, সেটি দায়মুক্তি পেতে পারে না। অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয় যেখানে সভ্য মূল্যবোধে বিশ্বাসী সব দেশকে একত্র হওয়া উচিত এবং বিচার নিশ্চিতের জন্য উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’

আন্তর্জাতিকপ্রচ্ছদ এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
কমলাপুর রেলস্টেশনের ঘাস নিয়ে লাইভ করার পর এবার ট্রেনে ওঠার সময় নারী ও বৃদ্ধাদের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফের ফেসবুক লাইভ করলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও বাচ্চাদের নিয়ে যারা রেলে চলাফেরা করেন তাদের প্রতি কি একটু সহায় হবেন- এমন আহ্বান জানান তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ যদি বউ-বাচ্চা, বৃদ্ধা মা-বাবাকে নিয়ে ট্রেনে উঠতে চান তা হলে বউ থাকবে কই আর মা-বাবা থাকবে কই। শুক্রবার (৫ জুলাই) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ফেসবুকে লাইভে এসে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার সুমন। লাইভে এসে প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনে ওঠার সিঁড়ির দূরত্ব দেখিয়ে সুমন বলেন, ‘এই ট্রেনটাকে মিটার গেজ (পরে সংশোধন করে বলেন ব্রডগেজ) বলা হয়। আমার প্রশ্ন হলো-প্ল্যাটফ্রম থেকে দূরত্ব বা উচ্চতা কত? ব্রিটিশ আমলের ট্রেনগুলো ছিল এমন। আপনারা (রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ) নতুন ট্রেন আনলেন কিন্তু প্ল্যাটফর্ম এখনো পুরনো।’ রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত লোকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখেন সবাই, প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনের উচ্চতা দোতলার সমান। কোনো স্টেশনে ট্রেনটি তিন মিনিট থামে। তিন মিনিটে ৫০ জন মানুষ প্রায় দুই তলার সমান উচ্চতায় ওঠা কি সম্ভব?’ রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘রেলমন্ত্রী, ট্রেন আপনি অনেক উঁচু বানিয়ে দিছেন। আর প্ল্যাটফর্ম এখানে বিট্রিশ আমলের। আমি কমলাপুর সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে বলছি। আর গ্রামের স্টেশনগুলোর অবস্থা তো আরও খারাপ। সেখানে ট্রেনে উঠতে তো রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। বউ বাচ্চা নিয়ে ওঠা একটা বে-ইজ্জতের কারবার।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুনিয়া এগোচ্ছে, সব কিছু এগোচ্ছে। রাতারাতি পরিবর্তন করতে পারবেন না। তবে ব্রেইনে আনেন পরিবর্তন করার। আপনারা বউ-বাচ্চা লইয়া ট্রেনে যাতায়াত করবেন কি-না জানি না। তবে, এই প্ল্যাটফর্ম ট্রেনের সমান করতে কোটি কোটি টাকার দরকার পড়বে না। আশা করি রেলমন্ত্রীসহ সকলেই এর প্রতি সদয় হবেন।’ এর আগে (৩০ মে) ব্যারিস্টার সুমন স্টেশনের সামনে রেললাইনের ওপর বেড়ে ওঠা ঘাস কেটে পরিচ্ছন্ন করার অনুরোধ জানিয়ে তার নিজের ফেসবুক পেজে লাইভ দেন। এর পরদিনই (শুক্রবার) সেসব ঘাস কেটে পরিষ্কার করে ফেলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর জন্য ট্রেনে তুলে দিতে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সেখানে তিনি দেখেন, রেললাইনের ওপর বড় বড় ঘাস জন্মেছে। যা কাটার জন্য কারো সময় নেই। ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘রেলের সময় নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। মোটামুটি ভালোই চলতেছে। এজন্য রেল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।’ ওই লাইভে তিনি আরও বলেন, এটা দেশের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশন। এটা কেন্দ্রীয় রেল স্টেশন। এ সময় তিনি এক হাত লম্বা লম্বা ঘাস দেখিয়ে বলেন, ‘কিছু লোক লাগিয়ে ঘাসগুলো পরিষ্কার করলে স্টেশনটা অনেক সুন্দর হয়ে যেত।’
৭ years ago