বরিশালে চাকুরীর প্রলোভনে জিম্মি করে দেহব্যবসা ! ডিবির অভিযানে আটক-৩, ২ নারী উদ্ধার

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

বরিশাল মহানগরের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামানের মালিকানাধীন ভবনে বিএমপি ডিবিরি সাড়াশি অভিযানে গতকাল (২ আগস্ট) রাতে দুই নারী ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, ১) মোঃ সেলিম চৌকিদার ২) মোঃ আনোয়ার হোসেন ৩) মোঃ বেলাল গাজী।

 

নগরীর পোর্ট রোডে আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামানের নিজস্ব জুতার দোকান “ব্রাইট সুজ শোরুমে”র ২য় তলায় পরিচালিত হোটেল পায়েল /পাতারহাট (আবাসিক) এ কয়েকজন নারীকে চাকুরীর প্রলোভনে জিম্মি করে দেহব্যবসায় বাধ্য করছিলো হোটেল ব্যবসায়ী কবির হোসেন।

 

এ সংক্রান্তে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সফল অভিযান চালায় বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ । উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মঞ্জুর রহমান এর নির্দেশে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিমের তত্বাবধানে এই অভিযানে অংশ নেন সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ রবিউল ইসলাম শামিম, পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হালিম খন্দকার, এসআই মোঃ দেলোয়ার হোসেন, পিপিএম ও এসআই মোঃ নজরুল ইসলাম সহ সঙ্গীয় ফোর্স।

 

পরে হোটেল মালিক (ভাড়াটিয় চুক্তি অনযায়ী) তিনজন এবং ভবন মালিক আক্তারুজ্জামন সহ সংস্লিষ্টদের আসামী করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করে ডিবির এসআই দেলোয়ার হোসেন।

 

বিএমপি ডিবির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ রেজাউল করিম এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
সম্প্রতি বিএমপি পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার এর সরাসরি নির্দেশনায় সদ্য যোগদানকৃত উপ- পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মঞ্জুর রহমান ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ রেজাউল করিমের (ডিবি) এর নেতৃত্বে হোটেলের এই অসামাজিক কার্যক্রম সমূলে বিনাশ করার নতুন মিশন হয়।

 

এই মিশনে হোটেলের মালিক, ভবন মালিক এবং ম্যানেজারকে আসামী করে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ১২(২)/১৩ ধারায় মামলা রূজু শুরু হয় আর উদ্ধাকৃত মহিলাদেরকে সাক্ষী করা হয়।

 

জুলাই/২০২০ থেকে প্রথম এই অপারেশন শুরু হয় এবং উল্লিখিত আইনে মামলা হয়। এই আইনে মামলার শুরুর পরেই পুরো বরিশাল মহানগরীর যে সকল আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চলতো তা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

 

 

এমনকি হোটেল মালিকরা হোটেল তালাবদ্ধ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এবং ব্যবসা পরিবর্তনের উপায় খুঁজছে। যদিও চুপিসারে কেউ কেউ ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে বলে গুঞ্জণ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল এই অভিযান পরিচালিত হয়।

 

এমন উদ্যোগের জন্য বিএমপি পুলিশ কমিশনার, নবাগত উপ- পুলিশ কমিশনার এবং অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) কে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নগরবাসী।

বরিশাল বাসী নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় তাদেরকে জড়িয়ে রাখবে অনাদি- অনন্ত। এমন কামনা করে এই অভিযানের সাফল্য কামনা ও পুলিশের এমন কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকুক এমন প্রত্যাশা করেন তারা।