
বরগুনায় নিজ ঘরে শাবল দিয়ে পিটিয়ে মুখমণ্ডল থেঁতলে আলম তাজ (৪৪) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘরে ওই গৃহবধূ একা থাকায় কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তা বলতে পারছেন না স্বজনরা। তবে এ ঘটনায় একটি লোহার তৈরি শাবল জব্দ করা হলেও এখন পর্যন্ত জাড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ১০ নম্বর নলটোনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আগাপদ্মা দিল মাহমুদ নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলম তাজ ওই এলাকার বাসিন্দা আবুল হাওলাদারের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় নিহত আলম তাজ তার নিজ বাড়িতে একা ছিলেন। এ সুবাদে কে বা কারা ঘরে ঢুকে লোহার তৈরি শাবল দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান আঘাত করেন। বিশেষ করে তার মাথায় উপর্যুপুরি আঘাত করে মুখমণ্ডল থেঁতলে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আলম তাজের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা টের পেয়ে স্বজন এবং পুলিশকে খবর দিলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নাঈম হোসেন তানভীর নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর শুনে ইফতারের পরে আমি এই বাড়িতে এসে মরদেহ পরে থাকতে দেখি। আমার জানামতে তাদের সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল না। এমনকি তার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার যা ছিল তাও পাওয়া গেছে। নিহতের ছেলেরা বরগুনা শহরে ব্যবসা করেন, এবং তার স্বামীরও ভালো টাকা-পয়সা আছে। তবে এলাকায় কারো সঙ্গে কোনো বিরোধ না থাকলেও দূরে অন্য কারো সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল কি-না তা আমার জানা নাই।
চম্পা নামে নিহত আলম তাজের এক স্বজন ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রথমে শুনেছি ওই বাড়িতে আগুন লাগছে। পরে ডাক-চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ একত্রিত হয়ে এসে দেখি ঘরের বারান্দায় আলম তাজ মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার মুখমণ্ডলে বেশি আঘাতের চিহ্ন দেখেছি।
নিহত আলম তাজের মা মোসম্মৎ ছায়াতন বেগম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি মেয়ের বাড়িতে থাকি না। কি কারণে কি হয়েছে আমি তা কিছুই জানি না। জামাই অসুস্থর কথা জানিয়ে আমাকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু এসে দেখি আমার মেয়েকে কারা যেনো মেরে ফেলেছে।
নলটোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুজ্জামান মাহফুজ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীরা বেড়িয়ে আসুক এবং যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মো. সালাহ্উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ সদস্যরাসহ আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনা শেষে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তবে ধারালো নয় এমন একটি লোহার তৈরি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে উপর্যুপুরি আঘাত করে মুখমণ্ডল থেঁতলে আলম তাজকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আমারা জানতে পেরেছি।