কমিউনিটি ক্লিনিক সংশ্লিষ্টদের জাতীয়করণ সম্ভব নয়

লেখক:
প্রকাশ: ৮ years ago

চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) দাবির প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটা একটা প্রকল্প। আর প্রকল্পে যারা কাজ করে তারা কিন্তু প্রকল্প হিসেবেই সেখানে কাজ করে। কাজেই প্রকল্পে কর্মরত যারা, তাদেরকে কিন্তু সরকারি চাকরি দেয়া কোনো সুযোগ নেই। যাদের এটা পছন্দ হবে না। তারা চলে যাবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই আন্দোলন করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রথম এ ব্যাপারে মুখ খুললেন।

আন্দোলনরতদের সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, তারা ট্রেনিং পেয়েছে, অনেক বেসরকারি হাসপাতাল হচ্ছে সেখানে চাকরির সুযোগ পাবে। আমরা নতুন লোককে কাজ দেব। কিন্তু এ প্রকল্প চলমান আছে, চলমান থাকবে। এটা কমিউনিটির স্থানীয় লোকজনই রক্ষণাবেক্ষণ করে। তাদেরই অধিকার এটা রক্ষা করা। আমরা তাদেরকে সবধরনের সহযোগিতা দেই।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের অধিকার। এই সেবা জনগণের দোরগড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। তিনি আরও ব্যাপকভাবে তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। আমরা সরকার গঠন করার পর কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো উন্নত করা ও নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তুলি। দুর্ভাগ্য হলো বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেয়। দেশে এখন কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। এসব কেন্দ্র থেকে আমরা জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি। এখান থেকে ৩০ প্রকার ওষধ বিনামূল্যে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, আমাদের নার্সের অভাব ছিল। আমরা ইতোমধ্যে ১৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়েছি। ১২ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। ১৪৫ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দিয়েছি। তাছাড়া প্রায় ১২’শ ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছি।

দুর্নীতি করতে নয়, জনগণের ভাগ্য গড়তেই রাজনীতি করি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুতে কোনো দুর্নীতি হয়নি। বিশ্বব্যাংক যা বলেছে তা গালগল্প। আমরা অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে এসেছি দুর্নীতি করতে না। নিজের ভাগ্য গড়তে না। জনগণের ভাগ্য গড়তে আমরা রাজনীতি করি। বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। আগামী মার্চেই বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। নিম্ন বা মধ্যম নয়, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবোই।

বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিল তখন সংসদে যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হতো, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কিন্তু বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি অত্যন্ত গঠনমূলক সমালোচনা করছে। গণতান্ত্রিক চর্চাটা কীভাবে হতে পারে তা এই সংসদে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের দেশে আশ্রয় দিয়েছি। যতদিন তারা নিজ মাটিতে ফিরে না যায় ততদিন যাতে একটু ভালোভাবে থাকে সেই ব্যবস্থা করেছি। ১০ লাখ ৭৮ হাজার রোহিঙ্গার আইডি কার্ড করে দিয়েছি, এতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে। আমরা মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি, কিন্তু তাদের সঙ্গে যে আচরণ মিয়ানমার করেছে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আসছে, বিনিয়োগের কোনো অভাব নেই। বিনিয়োগ যাতে দ্রুত হয়, সেজন্য ওয়ানস্টপ সেন্টার চালু করছি। কৃষিজমি যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য একশ’টি শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছি।

প্রচ্ছদরান্নাবান্নালাইফস্টাইল এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
কমলাপুর রেলস্টেশনের ঘাস নিয়ে লাইভ করার পর এবার ট্রেনে ওঠার সময় নারী ও বৃদ্ধাদের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফের ফেসবুক লাইভ করলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও বাচ্চাদের নিয়ে যারা রেলে চলাফেরা করেন তাদের প্রতি কি একটু সহায় হবেন- এমন আহ্বান জানান তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ যদি বউ-বাচ্চা, বৃদ্ধা মা-বাবাকে নিয়ে ট্রেনে উঠতে চান তা হলে বউ থাকবে কই আর মা-বাবা থাকবে কই। শুক্রবার (৫ জুলাই) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ফেসবুকে লাইভে এসে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার সুমন। লাইভে এসে প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনে ওঠার সিঁড়ির দূরত্ব দেখিয়ে সুমন বলেন, ‘এই ট্রেনটাকে মিটার গেজ (পরে সংশোধন করে বলেন ব্রডগেজ) বলা হয়। আমার প্রশ্ন হলো-প্ল্যাটফ্রম থেকে দূরত্ব বা উচ্চতা কত? ব্রিটিশ আমলের ট্রেনগুলো ছিল এমন। আপনারা (রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ) নতুন ট্রেন আনলেন কিন্তু প্ল্যাটফর্ম এখনো পুরনো।’ রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত লোকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখেন সবাই, প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনের উচ্চতা দোতলার সমান। কোনো স্টেশনে ট্রেনটি তিন মিনিট থামে। তিন মিনিটে ৫০ জন মানুষ প্রায় দুই তলার সমান উচ্চতায় ওঠা কি সম্ভব?’ রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘রেলমন্ত্রী, ট্রেন আপনি অনেক উঁচু বানিয়ে দিছেন। আর প্ল্যাটফর্ম এখানে বিট্রিশ আমলের। আমি কমলাপুর সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে বলছি। আর গ্রামের স্টেশনগুলোর অবস্থা তো আরও খারাপ। সেখানে ট্রেনে উঠতে তো রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। বউ বাচ্চা নিয়ে ওঠা একটা বে-ইজ্জতের কারবার।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুনিয়া এগোচ্ছে, সব কিছু এগোচ্ছে। রাতারাতি পরিবর্তন করতে পারবেন না। তবে ব্রেইনে আনেন পরিবর্তন করার। আপনারা বউ-বাচ্চা লইয়া ট্রেনে যাতায়াত করবেন কি-না জানি না। তবে, এই প্ল্যাটফর্ম ট্রেনের সমান করতে কোটি কোটি টাকার দরকার পড়বে না। আশা করি রেলমন্ত্রীসহ সকলেই এর প্রতি সদয় হবেন।’ এর আগে (৩০ মে) ব্যারিস্টার সুমন স্টেশনের সামনে রেললাইনের ওপর বেড়ে ওঠা ঘাস কেটে পরিচ্ছন্ন করার অনুরোধ জানিয়ে তার নিজের ফেসবুক পেজে লাইভ দেন। এর পরদিনই (শুক্রবার) সেসব ঘাস কেটে পরিষ্কার করে ফেলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর জন্য ট্রেনে তুলে দিতে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সেখানে তিনি দেখেন, রেললাইনের ওপর বড় বড় ঘাস জন্মেছে। যা কাটার জন্য কারো সময় নেই। ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘রেলের সময় নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। মোটামুটি ভালোই চলতেছে। এজন্য রেল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।’ ওই লাইভে তিনি আরও বলেন, এটা দেশের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশন। এটা কেন্দ্রীয় রেল স্টেশন। এ সময় তিনি এক হাত লম্বা লম্বা ঘাস দেখিয়ে বলেন, ‘কিছু লোক লাগিয়ে ঘাসগুলো পরিষ্কার করলে স্টেশনটা অনেক সুন্দর হয়ে যেত।’
৭ years ago