দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি বছর মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে প্রভিশন ঘাটতি ছিল এক লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে ১৪ হাজার ২২৩ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ১১ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকে এ হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকে এ হার মাত্র ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ।
খেলাপি ঋণের হার বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক খাতের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রভিশন ঘাটতিও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে, যা ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সংস্থাটির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশ এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকে ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
