সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে রাজপথে নামবে জনগণ: নাহিদ

লেখক:
প্রকাশ: ১১ ঘন্টা আগে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আগামী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশনে যদি সংস্কার পরিষদ গঠন না করা হয় এবং রাষ্ট্র সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে জনগণের ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় আবারো রাজপথে নামতে হবে।”

 

রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে বরিশাল নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এনসিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা ছয়টি আসনে জয় লাভ করেছি। কিন্তু, আমাদের প্রত্যাশা ছিল আরো বেশি। নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে যে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে এবং ফলাফলে যে কারচুপি হয়েছে তার প্রমাণ রয়েছে।”

তিনি বলেন, “নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিসসহ কয়েকজন প্রার্থী এবং ১১ দলীয় জোটের কয়েকজন প্রার্থীকে বিভিন্নভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা ফলাফল মেনে নিয়েছি এবং সংসদে শপথ নিয়েছি। কিন্তু, যারা ক্ষমতায় গেছে তারা শপথ নেওয়ার দিন জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করেছে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের এক মাসও পার হয়নি, আমরা এখনই দেখতে পাচ্ছি—দেশ কোন দিকে যাচ্ছে। যেখানে চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজ বললে আপনার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে।”

 

তিনি বলেন, “পুরনো সেই কায়দা, পুরনো সেই সিস্টেম দিয়ে নতুন প্রজন্মকে থামানো যাবে না। মামলা-হামলা অতিক্রম করেই এই দেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। যদি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো একজন নেতার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তার মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তারা বড় ভুল করবে। কারণ বাংলাদেশে শত শত নতুন পাটওয়ারী তৈরি হবে। তখন তরুণরা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “পুরো বাংলাদেশের তরুণ নাগরিকরা হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। তারা সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। কিন্তু এখন সংস্কার না করে নানা ধরনের ফন্দি করা হচ্ছে।”

 

তিনি বলেন, “আমরা আর অপেক্ষা করতে চাই না। ১২ মার্চ যদি সংসদ অধিবেশনে সংস্কার পরিষদ গঠন না করা হয় এবং সংস্কারের জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে যারা হ্যাঁ ভোট দিয়েছি—আমাদের অধিকার রক্ষায় আবারো রাজপথে নামতে হবে। এজন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।”

দেশে জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, “দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের গাড়িতে তেল দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছে না।”