বিদায় বেলায় বিসিবির কাছ থেকে ন্যূনতম সম্মানটুকুও পেলেন না জালাল

লেখক:
প্রকাশ: ৪ years ago

পুরো জীবনটাই তিনি ব্যয় করেছেন ক্রিকেটের জন্য। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা তার মত গুটি কয়েক ব্যক্তিত্বের হাত ধরে বলা যায়। ক্রিকেটারের চেয়ে কোচ জালাল আহমেদ ছিলেন সবচেয়ে বেশি পরিচিত। শুধু ক্লাব পর্যায়ে নয়, জাতীয় দলের কোচিংও করিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের অনেক রথি-মহারথি ক্রিকেটার জন্ম নিয়েছে তার হাত ধরে।

মাঝ বয়সে এসে হয়েছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিক এবং কলামিস্ট। তার লেখনি ছিল অসাধারণ। মুক্তার মালার মত অসাধারণ গাঁথুনি, পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতো। তার লেখা পড়ে অনেক তরুণ ক্রীড়া সাংবাদিকতায় নাম লিখিয়েছেন। তবুও, জালাল আহমেদ ছিলেন ক্রিকেট মাঠের মানুষ। পেছন থেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পরামর্শক। নিজেই বলতেন, ‘আমি হলাম জাতীয় দলের সারাজীবনের অবৈতনিক কোচ’।

অথচ, ক্রিকেটের জন্য সারাটা জীবন উজাড় করে দেয়া মানুষটাই বিদায় বেলায় দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা বিসিবির কাছ থেকে ন্যূনতম সম্মানটুকু পেলেন না। বড়ই আফসোসের বিষয়। ক্রীড়া এখন এটা অনেক বড় আলোচনার বিষয়। সবার মুখে মুখে ফিরছে, ‘বিসিবি কী পারতো না, শেষ বিদায়ে জালাল আহমেদ চৌধুরীর কফিনে একটা পুস্পস্তবক অর্পন করতে? পারতো না তার দুটি জানাজার একটিতে হলেও অংশ নিতে?’

হ্যাঁ, এসেছেন একজন। বোর্ড পরিচালকদের মধ্যে একজন- আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি নিজের হৃদয়ের টান থেকে ছুটে এসেছিলেন। আজিমপুরে দ্বিতীয় ও শেষ জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

অথচ, ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে কোন পুষ্পস্তবকও দেয়া হয়নি। বোর্ড সভা ছিল, এই ধুয়া তুলে ববি ছাড়া আর কোন বোর্ড পরিচালক, সিইও কিংবা বোর্ডের অন্য কোন কর্তাব্যক্তি তার জানাজায় শরীক হননি।

বিসিবির পূর্ব নির্ধারিত মিটিং ছিল। দুপুর ২টার মিটিং শুরু হয় আড়াইটায়। ধারণা করা হচ্ছে বর্তমাণ পরিচালনা পর্ষদের এটাই ছিল শেষ সভা। যদিও বিসিবি সভাপতি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে কোনো প্যানেল নেই। তারপরও ভেতরের খবর ১৭৪ জন কাউন্সিলরের মধ্য থেকে কোন ২৩ জন নির্বাচিত হবেন আগামী বিসিবি পরিালনা পর্ষদের সদস্য, তা একরকম চূড়ান্তই হয়ে গেছে।

সুতরাং, বিসিবির এই সভার খুব যে গুরুত্ব ছিল তাও নয়। সভায় যোগ দেয়া বোর্ড পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববির আজিমপুরে জালালের দ্বিতীয় ও শেষ জানাজায় অংশ নেয়া কিন্তু সেটাই বলে দিচ্ছে। ববি সভায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে সভা শেষ করার আগেই ছুটে যান আজিমপুরে।

বোর্ডের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তা কিংবা প্রধান নির্বাহী যেতে পারতেন। অন্তত বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি পুষ্পস্তবক দেয়া যেতো। কিন্তু যারা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত, তারা সারাজীবন ক্রিকেটের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেয়া এক ব্যক্তির চির বিদায়কে এতটা গুরুত্বই বা দেবেন কেন!

সারাজীবন ক্রিকেটের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেয়া জালাল আহমেদ কী শেষ বেলায় দেশের ক্রিকেটের অভিভাবকদের কাছ থেকে একটু হলেও মর্যাদা ও সম্মান পেতে পারতেন না? আফসোস!

হ্যাঁ, বোর্ড হয়তো যুক্তি দেখাবে মিটিংয়ের কথা বলে। হয়তো বলবে, পরিচালনা পর্ষদের সভা শুরুর আগে সাবেক ক্রিকেটার ও আম্পায়ার নাদির শাহ এবং জালাল আহমেদ চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি তো শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে! কিন্তু এটাই কী যথেষ্ট? ও হ্যাঁ, বিকেল ৪টার দিকে একটি শোক বার্তা পাঠানো হয়েছিল বিসিবির পক্ষ থেকে। এই এক বার্তা দিয়েই দায় সেরেছে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি।