২ ঘণ্টার সফর শেষে বরিশাল ছাড়লেন তারেক রহমান

লেখক:
প্রকাশ: ১০ ঘন্টা আগে

বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় ঐতিহাসিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফরিদপুরের উদ্দেশে বরিশাল ত্যাগ করেছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টা ৭ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল ত্যাগ করেন।

এর আগে সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন। ২০০৬ সালের পর এটি ছিল তার প্রথম বরিশাল সফর।

বরিশালে তিনি দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন এবং এ স্বল্প সময়েই লাখো মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেন। সমাবেশকে ঘিরে বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী পার্কসংলগ্ন রাস্তায় অবস্থান নেন। অনেকেই তাকে এক নজর দেখার জন্য গাছের ডালেও উঠে বসেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচারণায় অংশ নিতে প্রায় দুই দশক পর বরিশালে পৌঁছান তারেক রহমান। তার আগমন ঘিরে পুরো নগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অবতরণের পর বরিশাল বিভাগ ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি সড়কপথে সমাবেশস্থলে গিয়ে হাত নেড়ে লাখো মানুষের অভিবাদন গ্রহণ করেন।

তার আগমন উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকেও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, কয়েক লাখ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমে পরিণত হয়।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, প্রায় ২০ বছর পর দলীয় চেয়ারম্যানকে সরাসরি দেখতে পেয়ে তারা আবেগাপ্লুত। তাদের ভাষায়— ‘এটি শুধু একটি জনসভা নয়; দীর্ঘ অপেক্ষার পর দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপি নেতাকর্মীদের মনোবল ও রাজনৈতিক উদ্দীপনার প্রতীক।’

২০০৬ সালে বরিশাল সফরের সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব ছিলেন। এবার চেয়ারম্যান হিসেবে তার আগমনকে তারা দল পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। তার সফরকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম ও সমাবেশস্থলের চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসন জানায়, সম্ভাব্য বৃহৎ জনসমাগম বিবেচনায় সব প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে সমাবেশে আনার জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা একযোগে প্রস্তুতি নেয়। সমাবেশটিকে দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী শক্তি-প্রদর্শনে রূপ দিতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

নেতাদের আশা, তারেক রহমানের এ সফর দক্ষিণাঞ্চলে বিএনপির তৃণমূল সংগঠনকে নতুন করে সক্রিয় করবে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতির সূচনা করবে।