১২ লাখ শিশুকে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা দেওয়ার হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

লেখক:
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

 

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের আনা একটি জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের এই টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। কর্মসূচির প্রথম দিনেই নির্ধারিত ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ সাফল্য নির্দেশ করে।

সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পূর্ববর্তী সরকারগুলোর কঠোর সমালোচনা করে জানান, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর দেশে বিশেষ কোনো টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়নি। তিনি দাবি করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণেই বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবং ৩ মে থেকে সারা দেশে অবশিষ্ট এলাকাগুলোতে টিকাদান শুরু হবে। একই সঙ্গে গত রোববার থেকে দেশজুড়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সুবিধার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং রাজশাহী অঞ্চলে নতুন করে ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পাশাপাশি আইসিডিডিআরবি’র উদ্ভাবিত সাশ্রয়ী নতুন অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীদের ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহের জন্য করোনাকালীন সময়ের অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক এই সংকট মোকাবিলায় ঋণ ও অনুদান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মাঠপর্যায়ে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত তিন সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে ১১৫ জনেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও সাধারণ মানুষ হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন বা আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছে না এবং স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের একটি বড় অংশ অব্যয়িত থেকে যাচ্ছে।

এর জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মাঠপর্যায়ের তদারকি বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে টিকার কোনো ঘাটতি তৈরি না হয়।