কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে শরীফ মিয়া (২৮) নামে এক যুবক খুনের ঘটনায় মূলহোতাকে তার দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব। শনিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে র্যাব-৩ এর একটি দল রাজধানীর চকবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতাররা হলেন- মূলহোতা মো. নিলয় মিয়া (২০), তার সহযোগী মো. ইব্রাহিম মিয়া ওরফে বাদল (১৯) ও মো. হৃদয় মিয়া (২৩)।
রোববার (২৩ অক্টোবর) র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়।
তিনি বলেন, শরীফ মিয়ার স্ত্রীর সঙ্গে নিলয়ের দীর্ঘদিনের প্রেমের সর্ম্পক ছিল। পরে শরীফের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এ নিয়ে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে নিলয়, হৃদয় এবং বাদল মিলে শরীফকে খুন করে।
এই র্যাব বলেন, গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় আসামিরা একটি মাজারে যাওয়ার কথা বলে শরীফের অটোরিকশা ভাড়া করে। তারা শরীফকে উপজেলার কুলিয়ারচরের মাটিকাটা গ্রামের শান্তিপুর বাঘমারার বন্দ নামক নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে আসামিরা শরীফকে অটোরিকশা দিয়ে দিতে বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং স্ত্রীকে তালাক দিতে বলে। শরীফ তাদের কথায় অস্বীকৃতি জানান। এরপর তারা শরীফকে বেধড়ক মারপিট করেন। এসময় গ্রেফতার হৃদয় এবং নিলয় ধারালো ছুরি দিয়ে শরীফকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। একপর্যায়ে বাদল ভিকটিমের বুকের ওপর চড়ে বসে ছুরি দিয়ে জবাই করেন।
তিনি বলেন, শরীফের মৃত্যু নিশ্চিত হলে তার মোবাইল ফোন এবং অটোরিকশা নিয়ে আসামিরা পালিয়ে যান। পরে মোবাইলটি তাদের বন্ধু মুরছালিনের কাছে বিক্রি করেন এবং অটোরিকশাটি বাঁশগাড়ি এলাকায় বাদলের এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে তিনজন ভৈরব থেকে বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, ঘটনার দিন শরীফ মিয়া বাড়ি না ফিরলে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা লোকমুখে জানতে পারেন বন্দ নামক স্থানে অজ্ঞাত যুবকের গলাকাটা মরদেহ পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন কুলিয়ারচর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। পরে তারা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় শরীফ মিয়ার ভাই মো. শিপন মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই র্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে নিলয় এবং হৃদয় বেশ কিছুদিন যাবৎ এলাকায় অবস্থান করছেন। তারা বাদলকে সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা চূড়ান্ত করেন। শরীফকে খুনের পর তিনজনই ঢাকায় পালিয়ে আসেন এবং লালবাগে তাদের আগের কর্মস্থল জুতার ফ্যাক্টরিতে আশ্রয় নেন। ঘটনার পর থেকেই লালবাগ এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন আসামিরা।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।