ব্রাজিলের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই যেন চোটের সঙ্গে একটা ছায়া যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন আনচেলত্তি। বিশ্বকাপের ম্যাচেও তার প্রভাবটা স্পষ্ট। সবশেষ চোটে পড়েছেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তারকা রাফিনিয়া। তাইতো স্কটল্যান্ডের জমাট ডিফেন্স ভাঙতে নতুন রণকৌশলের আভাস দিয়েছেন সেলেসাও বস আনচেলত্তি।
ফরমেশন ও স্কোয়াড নির্বাচন
বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ফুটবল ওয়েবসাইটের প্রেডিকশন অনুযায়ী, আনচেলত্তি তার চিরচেনা ৪-৩-৩ ফরমেশন থেকে কিছুটা সরে এসে ৪-২-৩-১ অথবা ৪-৩-১-২ ফরমেশনে দল সাজাতে পারেন। গোলপোস্টের নিচে আলিসন বেকার যথারীতি থাকছেন। রক্ষণে মার্কিনহোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের সাথে দুই ফুল-ব্যাক হিসেবে দেখা যেতে পারে দানিলো ও ওয়েন্দেলকে।
মাঝমাঠের দখল নিতে ব্রুনো গিমারায়েস ও দগলাস লুইসের মতো ডাবল-পিভট ব্যবহার করা হতে পারে, যা ডিফেন্সকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি বলের জোগান সচল রাখবে। আসল চমক থাকছে আক্রমণভাগে, যেখানে নেইমারকে ‘নাম্বার টেন’ বা ফ্রি-রোলে রেখে দুই উইং বা ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলানো হতে পারে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রদ্রিগোকে।
প্লেয়িং স্টাইল ও রণকৌশল
স্কটিশরা যেহেতু ‘লো-ব্লক’ বা রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেবে, তাই আনচেলত্তির মূল প্ল্যান হবে উইং দিয়ে আক্রমণ করার পাশাপাশি মাঠের মাঝখান দিয়ে ফাঁকা জায়গা তৈরি করা। প্লেয়িং স্টাইলের ক্ষেত্রে ব্রাজিল এই ম্যাচে প্রথাগত গতির চেয়ে ‘বল পজেশন’ এবং দ্রুত ছোট পাসের ওপর জোর দেবে।
এখানে মূল ভূমিকা থাকবে নেইমারের। তিনি কিছুটা নিচে নেমে এসে খেলা নিয়ন্ত্রণ করবেন, যা স্কটিশ ডিফেন্ডারদের তাদের লাইন থেকে সামনে চলে আসতে বাধ্য করবে। আর সেই সুযোগে ভিনিসিয়ুস ও রদ্রিগো তাদের গতি খাটিয়ে বক্সে ইনসাইড-রান নেবেন। একই সাথে, বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল আদায় করে ডেড-বল বা ফ্রি-কিকের সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়ার কৌশলও থাকবে সেলেসাওদের।
সব মিলিয়ে, আনচেলত্তির পরিকল্পনা হচ্ছে ধৈর্যের সাথে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং স্কটল্যান্ডের ডিফেন্সে ফাটল ধরাতে নেইমারের সৃজনশীলতাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো।
