পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে নৌপথে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ঈদ যাত্রা শুরু হয়েছে।
আজ (সোমবার) রাতে সদরঘাট টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এই কথা জানান।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা যতটুকু দেখেছি, আমরা যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম সেভাবেই ঈদ যাত্রা শুরু হয়েছে। ভালোভাবেই আমরা আমাদের কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করতে পারছি। আশা করি বাকি সময়টাও সুষ্ঠু, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে সাধারণ মানুষকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারব।
লঞ্চ মালিকদের যাত্রী সংকটের দাবির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা সামনেই দেখতে পাচ্ছেন, লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের কোনো অভাব নেই। উৎসবের আমেজে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাড়ি যাচ্ছেন। আমাদের সংস্থাগুলোও কাজ করে যাচ্ছে। অতীতের বছরগুলোতে সদরঘাট টার্মিনাল ও নৌকায় হাজার হাজার হকার থাকত, যার সুযোগ নিয়ে কিছু অবাঞ্ছিত লোক যাত্রীদের বিরক্ত করত। এবার পুরো টার্মিনাল হকারমুক্ত করা হয়েছে এবং হকার ভাইদের বিকল্প বসার জায়গা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হওয়ায় যদি কেউ মনে করেন প্যাসেঞ্জার নেই, তবে সেটি ভুল। যাত্রী সংখ্যা আগের মতোই আছে।
লঞ্চগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের জানান, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও প্রায় ১০ শতাংশ কম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, কারণ খুচরা টাকার সংকটের কারণে অনেক সময় রাউন্ড ফিগার করতে হয়। লঞ্চ মালিকরাও যাত্রী সাধারণের কথা চিন্তা করে এই ভাড়ায় সম্মতি জানিয়েছেন। প্রতিটি লঞ্চে ডিজিটাল ডিসপ্লে ও চার্ট দেওয়া আছে এবং নিয়মিত মাইকিং করে যাত্রীদের সচেতন করা হচ্ছে। আশা করি বাড়তি ভাড়ার কোনো অভিযোগ আসবে না।
গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কটি যানজটমুক্ত রাখতে বিআইডব্লিউটিএর অধীনে দেওয়ার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, সড়কে প্রকৃতপক্ষে বিআইডব্লিউটিএ বা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজ নেই। সড়ক সড়ক বিভাগের কাছে থাকবে। টার্মিনাল এবং নদী সংশ্লিষ্ট যতটুকু জায়গা লঞ্চ চলাচলের জন্য প্রয়োজন, ততটুকু বিআইডব্লিউটিএর নিয়ন্ত্রণে আছে এবং তা সুন্দরভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। সড়ক বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে সড়কের বিষয়টি পরিচালনা করছে।
গতবারের তুলনায় এবারের ঈদ যাত্রার ব্যতিক্রমী দিকগুলো তুলে ধরে তিনি জানান, এবার যাত্রীদের জন্য বিকল্প ঘাট তৈরি করা হয়েছে। পুরো টার্মিনাল আধুনিক ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ভেতরে বসার সুব্যবস্থা, নামাজের জায়গা, প্রবীণ ও অসুস্থদের জন্য হুইলচেয়ার এবং মালামাল বহনের জন্য ট্রলির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ সময় তিনি আরো জানান, কুলিদের বিরুদ্ধেও এবার কোনো অভিযোগ নেই। এ ছাড়া, জাহাজের আগমন ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণের জন্য আধুনিক কন্ট্রোল রুম ও তথ্য কেন্দ্র কাজ করছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী যাত্রীদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে উঠবেন না। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, ডুবুরি দল এবং রেসকিউ টিম সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রতিটি জাহাজের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
