সংবাদ প্রকাশের পর সাবজানের ভিটায় ঘর তুলে দিচ্ছে পুলিশ

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

দীর্ঘ ২২ বছর ধরে আইনি লড়াই শেষে ফিরে পাওয়া জমিতে ঘর তুলেছিলেন অশীতিপর সাবজান। কিন্তু রাতের অন্ধকারে প্রভাবশালী দখলদাররা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল তার সেই ঘর। ভিটাবাড়ি নিশানা মুছে দেওয়ার জন্য লাঙল দিয়ে বানানো হয়েছিল ফসলি জমি। তবুও আইনের প্রতি আস্থা রেখে সাবজান করেন মামলা। বিষয়টি নিয়ে সমকালে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাবজানের সেই ভিটাতেই ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার হয়েছেন এক অভিযুক্ত।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় জাটিয়া ইউনিয়নের টাঙ্গনগাতি গ্রামের মৃত রহিম বকসের স্ত্রী সাবজান। তার আবদুর রাশিদ ও আবদুর রশিদ নামে দুই ছেলে এবং সাহেরা খাতুন ও রুমেলা খাতুন নামে দুটি মেয়ে রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পর সাবজানের স্বামী মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়েন এবং গ্রাম ছেড়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে আর ভিটাতে ফিরতে পারেননি সাবজান।

সাবজানের স্বামীর চাচাতো ভাইয়েরা তার জমিজমা বিক্রি করে দেন। ওই অবস্থায় নিজে অন্যের বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের বড় করে তোলেন। পরে বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ করে ১৯৯৬ সালে ঈশ্বরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আট একর ৮১ শতক জমির জন্য মামলা করেন সাবজান। আদালত বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১২ সালের শুরুর দিকে সাবজানের পক্ষে একটি রায় প্রকাশ করেন। এর পর আরো বিভিন্ন জটিলতা শেষে আদালতের নির্দেশে পুলিশের উপস্থিতিতে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পুলিশ, আদালতের নাজিরসহ অন্যরা সাবজানকে দুই দশমিক ৩৫ একর জমি বুঝিয়ে দেন। সেই জমিতে ঘর তুলতে গেলে বাধা দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে ঘর করে বসবাস শুরু করে সাবজান। কিন্তু গত ১২ এপ্রিল রাতে সাবজানকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভিটিতে থাকা ৪টি ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেয় প্রতিপক্ষরা। বসত ভিটার নিশানা মুছে দিতে সেই জমিতে লাঙল চালিয়ে ফসলি জমি বানিয়ে ফেলা হয়। বিষয়টি নিয়ে গত ১৪ এপ্রিল সাবজান ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও অনন্ত ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এ বিষয়ে গত সোমবার সমকালের শেষ পাতায় ‘সাবজানের ভিটাকে ওরা বানাল ফসলি জমি!’শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে টনক নড়ে প্রশাসনের। ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম আগামী তিনদিনের মধ্যে সাবজানকে ঘর করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্থানীয় পুলিশকে। এদিকে সাবজানের ঘরবাড়ি গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সোমবার রাতে এজাহারভুক্ত এক আসামি মো. জুয়েল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের নির্দেশে মঙ্গলবার থেকে বৃদ্ধার সেই ভিটেতেই ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের উদ্যোগে ঘর করে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃদ্ধার জমিতে বেস্টনি তৈরির কাজ করা হয়। বুধবার পুলিশের উপস্থিতিতে ও অর্থায়নে সাবজানের থাকার জন্য ঘর নির্মাণ করা হবে।

সাবজানের মেয়ে সাহেরা খাতুন বলেন, গ্রামের লোকজন তার মায়ের ঘরটি নিশ্চি‎‎হ্ন করে দিয়েছিল জমি গ্রাস করার জন্য। এখন সেই জমিতেই পুলিশ ঘর করে দিয়ে তার মায়ের থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। এ জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. বদরুল আলম খান বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে বৃদ্ধার সেই জমিতে তাদের নিজস্ব অর্থায়নে ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জমিতে বেস্টনি দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে সেই জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ করা হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।