শীতে কাঁপছে কলকাতা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে কলকাতা। শুধু কলকাতা কেন পশ্চিমবঙ্গের গোটা উত্তরাঞ্চল জুড়ে চলছে শৈত্য প্রবাহ। গতকাল শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল দার্জিলিংয়ে। তাপমাত্রা ছিল ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

কলকাতায় তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় গরিব মানুষেরা চরম বিপদে পড়েছে। বিশেষ করে বস্তিবাসীরা। কলকাতার বিভিন্ন রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল সহ লঞ্চঘাটে শীতের কামড় নিয়ে মানুষ বহু কষ্টে শীত নিবারণ করছে। রাস্তায় রাস্তায় জ্বালানো হচ্ছে কাঠ, গাড়ির টায়ার, বিভিন্ন প্লাস্টিকের ভাঙাচোরা এবং পুরোনো ড্রাম। কলকাতা সহ রাজ্যের সর্বত্র বাস ট্রাম, ট্রেনে, লঞ্চে কমে গেছে যাত্রী চলাচল।

কলকাতায় এখন রাস্তাঘাটে কমে গেছে মানুষের চলাচল। শীতের ভয়ে প্রয়োজন না থাকলে আর কেউ এখন বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। ফলে সকালবেলা কলকাতা শহরের রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা থাকছে। রোদ উঠলে ধীরে ধীরে বাড়ছে যান চলাচল। মানুষের চলাচল।

গতকাল দমদমে তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি, কলকাতা ১১ ডিগ্রি, শ্রীনিকেতনে ৭.৮, কোচবিহার ৮.৩, জলপাইগুড়ি ৮.৬, কালিম্পং ৭, মালদহ ১০.৫, বর্ধমান ৮.৮, আলীপুর ১১. মধ্যমগ্রাম ৯ ডিগ্রি এবং পানাগড়ে ৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর বলেছে, কলকাতায় গত দুই বছরে এত নিচে তাপমাত্রা নামেনি। আজ শনিবার কলকাতার পাশাপাশি বীরভূম, পুরুলিয়া, বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়াতে হাড় কাঁপানো শীত পড়বে। কলকাতার তাপমাত্রাও নেমে যেতে পারে ১০ডিগ্রির নিচে। বলা হয়েছে আরও ৪৮ ঘণ্টা চলবে এই শৈত্য প্রবাহ। 
গতকাল শুক্রবার দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ের শুরু হয়েছে তুষারপাত। ম্যাল, ঘুম রেলস্টেশন চত্বর, বাতাসিয়া লুপ, রিপশ, সোনাদা, টাইগার হিল সহ বিভিন্ন এলাকা বরফের পুরু আস্তারণে ঢেকে যায়। 
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে আরও বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ছিল কলকাতার সবচেয়ে শীতলতম দিন। তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি। ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি ছিল ৯.৬ ডিগ্রি, ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ।
এদিকে প্রচণ্ড শীতে এখন কাঁপছে দার্জিলিং। মানুষ তীব্র শীতের কামড়ে আর বের হচ্ছে না হোটেল থেকে। পর্যটকেরা রুম হিটার চালিয়ে গরম করছে রুম। দার্জিলিংয়ের সব হোটেলেই এখন পর্যটক সংখ্যা কমে গেছে। যাঁরা বরফ দেখতে চান তাঁরাই এখন ছুটে আসছেন দার্জিলিং।