‘শিশু নির্যাতন কমলেও বেড়েছে ভয়াবহতা’

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

শিশু নির্যাতন ২০১৫ সালের তুলনায় কমেছে, তাবে তা সন্তষ্ট হওয়ার মতো কিছু নয়। ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৫৮৯ জন শিশু সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব নির্যাতনের ঘটনা ছিল ভয়াবহ। বিগত বছরে নির্মমভাবে পিটিয়ে শিশু নির্যাতন বেড়েছে। এরমধ্যে এক হাজার ৪৪১জন শিশুর অপমৃত্যু হয়েছে। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৬৮৬ জন শিশু। ২০১৫ সালে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ২১২টি।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০১৬’ পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএফ) এ তথ্য জানায়। জাতীয় ১২টি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ থেকে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংগঠনটি। দেশের ২৬৯টি বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত ‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম’-(বিএসএফ)।
‘বিএসএফ’ এর তথ্য মতে, আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে মা-বাবার হাতে শিশুহত্যা এবং শিক্ষকদের হাতে নির্যাতনের হারও। ২০১৬ সালে ৬৪ শিশু মা-বাবার হাতে খুন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেশি। ২০১৫ সালে এর সংখ্যা ছিল ৪০। পাশাপাশি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের হাতে শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে। ২০১৬ সালে ২৬৩ শিশু এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়।
বিগত বছরে নির্মমভাবে পিটিয়ে শিশু নির্যাতন ১৮ শতাংশ বেড়েছে। চুরির অপবাদে দরিদ্র এবং শ্রমজীবী শিশুদের পিটিয়ে নির্যাতন এবং এর ভয়াবহতা অব্যহত ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালে ১০৬ শিশুকে পিটিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে, যা ২০১৫ সালে ছিল ৯০।
২০১৬ সালে ৩৯৮ শিশু শারীরিক নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়। এর মধ্যে ২৬৩ শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের দ্বারা শাস্তি ও নির্যাতনের শিকার হয়। যা ২০১৫ সালে ছিল ৪৫১টি।
শিশু অধিকার পরিস্থিতি উন্নত করতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও রায় কার্যকর করার সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে তারা পরিবারের বাবা-মায়ের উদ্দেশে বলেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কারো আচরণে অসংগতি দেখা দিলে অবহেলা না করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলেন। গণমাধ্যমকে শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলোর ফলোআপ প্রকাশ করার কথা বলেন।
এ বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, গতবছর শিশুর প্রতি নির্যাতনের হার কমেছে তবে তা আশানুরূপ নয়। তিনি বলেন, সামাজিক অস্থিরতার কারণে মা-বাবা ও শিক্ষকদের হাতে হত্যা ও নিপীড়নের ঘটনা বেড়েছে। তিনি বলেন, শিশুদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং গণমাধ্যমকেও এ ধরনের ঘটনায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।
২০১৬ সালে ৪৪৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়; আর ২০১৫ সালে হয় ৫২১জন। শিশু অপহরণের ঘটনা কমেছে। তবে বেড়েছে নবজাতক চুরির ঘটনা। শিশুহত্যা, আত্মহত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা ২০১৬ সালে আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। গত বছর ২৬৫ শিশু খুন হয়। ২০১৫সালে যা ছিল ২৯২।
শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন মো. এমরানুল হক চৌধুরী বলেন, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও বিচারহীনতার কারণে শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটেই চলেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ঘটনার নির্মমতা। শিশুদের এ ধরনের সহিয়সতা থেকে রক্ষা করতে শিশুদের জন্যে একটি স্বতন্ত্র শিশু কমিশন গঠনের কথা জানান তিনি।