যমুনায় চর, সেচ সংকটে কৃষক

লেখক:
প্রকাশ: ১ বছর আগে

যমুনা নদীতে চর পরায় সেচ সংকটে ভুগছেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্পের কৃষকরা। ইরি-বোরোর ভরা মৌসুমে শুরুর আগে এ সমস্যার সমাধান না হলে বোরো আবাদ চরমভাবে ব্যাহত হতে পারে।

 

সেচ প্রকল্পের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে চর কেটে ক্যানেল তৈরি করে পানি সরবরাহের জন্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শিবালয়ের আরিচা খালপাড় এলাকায় যমুনা নদীর তীরে কাশাদহ সেচ প্রকল্পের পানির পাম্পের সামনের নদীতে বিশাল চর জেগে উঠেছে। এতে সেচ প্রকল্পের পানির পাম্প এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সরে গেছে নদী।

 

কৃষকরা বলছেন, চর কেটে ক্যানেল বের না করলে সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর পানি দিয়ে চলতি বছরে বোরো আবাদ করা আর সম্ভব নয়।

জানা গেছে, ১৯৮০ সাল থেকে ঐতিহ্যবাহী আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে শিবালয় উপজেলার ১৪-১৫ গ্রামের প্রায় ২ হাজার কৃষক প্রায় ১২শ বিঘা জমিতে স্বল্প খরচে বোরো আবাদ করে আসছেন। এতে একদিকে নদীর আয়রন মুক্ত পানিতে জমির উর্বরতা শক্তি ঠিক থাকছে, অপরদিকে সেচ খরচও কম হচ্ছে।

 

পানির অপচয় রোধ এবং অবকাঠামো উন্নয়নকল্পে সেচ প্রকল্পটি ২০০৪ সালে শিবালয় ক্ষুদ্র পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সরকারিভাবে কয়েক দফায় প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ করে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। পাকা করা হয়েছে ড্রেন ও পানির হাউজ। তবে, এবার নদীতে চর পরে বন্ধ হয়ে গেছে পানির উৎস।

ছোট আনুলিয়া গ্রামের কৃষক মো. আবুল কালাম বলেন, আমরা যমুনার পানি দিয়ে বোরো আবাদ করতাম। কিন্তু এ বছর চর পড়ার কারণে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বড় আনুলিয়া গ্রামের কৃষক মকছেদ আলী বলেন, ৪০ বছর ধরে যমুনা নদীর পাড়ে পাম্প বসিয়ে সরাসরি নদীর পানি দিয়ে ইরি-বোরো আবাদ করে আসছি। এতে জমির উর্বরতা শক্তি ঠিক থাকছে এবং সেচ খরচও অনেক কম হয়েছে। এ বছর পানির পাম্পের সামনে যে চর পড়েছে তা কেটে ক্যানেল তৈরি না করলে সেচ দেয়া সম্ভব হবে না। এতে বন্ধ হয়ে যাবে বোরো আবাদ।

 

কাশাদহ সেচ প্রকল্পের সভাপতি মো. মশিউর রহমান আওয়াল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে পাম্পের সাহায্যে সরাসরি যমুনা নদী থেকে পানি তুলে বোরো ধানের আবাদ করে আসছি। এ বছর বিআইডব্লিউটিএ উজানে নদী খনন করে ড্রেজিংকৃত মাটি ফেলার কারণে আমাদের পানির পাম্পের সামনে যমুনা নদীতে বিশাল চর জেগে উঠেছে। এতে নদীর পানি তোলার পাম্পের হাউজ এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে সরে গেছে নদী। এমতাবস্থায় চর না কাটলে কোনভাবেই জমিতে সেচ দেওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট আবেদন করা হয়েছে।

শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদার বলেন, সেচ সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসন এবং পরিষদের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে।