এম.এস.আই লিমনঃ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রাজনৈতিক প্রভাব এবং আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন দন্দের কারনে মেয়াদপুর্তির প্রায় মাস খানেক পূর্বে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েও হাল ছাড়তে পারলেন না সিটি মেয়র আহসান হাবীব কামাল।এ মাসের ১ তারিখ আকস্মিক এক সিদ্ধান্তে মেয়াউত্তীর্নের আগেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষনা দেয় তিনি।এর ঠিক তিন দিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের আবেদনপত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর প্রেরন করে।নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে তার আবেদন পত্রটি কোন কারন ব্যাতীরেকেই মন্ত্রনালয় গ্রহন করেনি বলেও জানা গেছে।
২২ অক্টোবর নব মেয়রের শপথ গ্রহন আর সাবেক মেয়রের পরিষদের মেয়াদ শেষ ২৩ অক্টোবর। চলতি মাসের শুরুতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিদায়ী মেয়র আহসান হাবীব কামাল তার পদত্যাগের ঘোষনা জানিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে ৪ অক্টোবর ডাক যোগে লিখিত দরখাস্তর মাধ্যমে পদত্যাগ পত্র স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী বরাবর প্রেরন করে।কিন্তু অজানা কারনে তার পদত্যাগের দরখাস্ত গ্রহন করা হয়নি বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিভাগীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। কেন বা কি কারনে তার পদত্যাগপত্র গ্রহন করা হয়নি তা সুস্পষ্ট করে জানা যায়নি।তবে অপর এক সূত্রে তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে জানা গেছে,গত ৩১ জুলাই বরিশাল ১ আসনের সংসদ সদস্য বরিশাল জেলা আ'লীগের সভাপতি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্ (এমপি) স্থানীয় সরকার বাংলাদেশ সচিবালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় বিভাগের সিনিয়র সচিব,ড. জাফর আহমেদ খান বরাবর বিসিসি মেয়র আহসান হাবীব কামাল অর্থ লোপাট করছে এই মর্মে অভিযোগ প্রদান করে ব্যাবস্থা নেবার জন্য।
অভিযোগের তদন্তও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্ এমপি'র অভিযোগ পত্রে ৫০(পঞ্চাশ) কোটি টাকা কম গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যায় দেখিয়ে অর্থ লোপাট করে যাচ্ছেন এমন উল্লেখ্য করে নব নির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব গ্রহনের পরে যাতে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের তহবিলে জমা কৃত অর্থ ব্যয় করতে পারে সে জন্য মেয়র আহসান হাবীব কামালের কম গুরুত্বপূর্ন খাতে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ বন্ধ করা প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ্য করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
এ কারনে মন্ত্রনালয় বিসিসি'র উন্নয়নে কোন তহবিল ছাড় করছিল না।আর বিগত ৫ মাসে কোন আর্থিক লেনদেন না করতে পারায় নগর উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পূর্ণ রুপে স্থবির হয়ে পরার ফলে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে দরখাস্ত প্রদান করেছিল কামাল।চলতি মাসের গত ৪ অক্টোবর তার পদত্যাগপত্র রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বরিশাল সিটির বিদায়ী মেয়র আহসান হাবিব কামাল। ঐদিন দুপুরে আহসান হাবীব কামালের ব্যক্তিগত সহকারী ফরিদুল ইসলাম বরিশাল প্রধান ডাকঘর থেকে বিদায়ী মেয়রের পক্ষে রেজিস্ট্রি ডাক যোগে (নং ৫৯২) স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বরাবর এই পদত্যাগপত্র প্রেরণ করে।স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী বরাবর বিসিসি'র মেয়র আহসান হাবীব কামালের পরিষদের মেয়াদ ১৯ দিন বাকী থাকতেই প্রেরণ করা পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ্য করে, তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার সাধ্য মতো সুনামের সহিত নাগরিক সেবা দিতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বিগত ১৩ জুন (একই দিন বিসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়) থেকে সিটি কর্পোরেশনের দৈনন্দিন দাপ্তরিক ও অর্থনৈতিক কাজ সম্পাদন করতে একেবারেই পারছে না।
নগর ভবনের তহবিলে স্থিতি থাকার পরও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা, যানবাহনের জ্বালানী তৈল সরবরাহ ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, রাস্তার বৈদ্যুতিক বাতি সরবরাহ ও বিল পরিশোধ, রাস্তাঘাট সংস্কার ও মেরামত, মনোহারি মাল সরবরাহ ও মূল্য পরিশোধ করা সহ বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ জমা থাকা সত্বেও নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ ৩০ জুনের মধ্যে ঠিকাদারদের পরিশোধযোগ্য বিল পরিশোধ করতে পারছিল না অজানা কারনে।জনস্বার্থে তিনি জমাকৃত অর্থ গুরুত্বপূর্ন সকল খাতে ব্যায় করতে গেলেও বাধাপ্রাপ্ত হন।তিনি আরো উল্লেখ্য করে,চলতি বছরের গত ৩১ জুলাই আপনার মন্ত্রণালয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে আমার সকল দাপ্তরিক ও অর্থনৈতিক (বিশেষ পাওনা পরিশোধ) কাজ সম্পাদন করতে বাধাপ্রাপ্ত হই।
এতে সিটি কর্পোরেশন অচল হয়ে যায়। এই অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ন্যুনতম নাগরিক সেবা দিতে না পাড়ায় তিনি মেয়র পদ থেকে পদত্যাগপত্র প্রদান করেছেন বাধ্যহয়েই।বিদায়ী বিএনপি পন্থী মেয়র আহসান হাবীব কামাল দৈনিক দেশ জনপদের প্রতিবেদকের মুঠোফোনে বলেন, তাকে স্বাভাবিক কাজ করতে দেওয়া হচ্ছিলো না। তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে তহবিল তসরূপের লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধের আনিত অভিযোগের বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি ইতোমধ্যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। তহবিল তসরূপ না করলে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কামাল বলেন, তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করাসহ তাকে বেকায়দায় ফেলতেই অভিযোগ করা হয়েছে।তিনি কোন তহবিল তসরূপ করেননি বলে দাবী করেন। মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পদত্যাগপত্রের একটি অনুলিপি সিটি কর্পোরেশনেও পাঠিয়েছেন আহসান হাবিব কামাল।
কিন্তু বিসিসি’র সাধারণ শাখা তালাবদ্ধ থাকায় অনুলিপি জমা দিতে পারেননি তিনি। নিয়মানুযায়ী পদত্যাগপত্রের একটি ছায়াকপি নিয়ে মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী ফরিদুল ইসলাম দুপুরে নগর ভবনে গিয়েছিলেন।কিন্তু নগর দায়িত্বশীলেরা অনুপস্থিত থাকায় কেউ গ্রহন করেনি। সূত্রমতে,২০১৩ সালের অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে বিএনপি পন্থী মেয়র আহসান হাবীব কামাল জনরায়ে বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহন করে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রাজনৈতিক প্রভাব এবং আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন দন্দের কারনে মেয়াদপুর্তির প্রায় মাস খানেক পূর্বে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েও হাল ছাড়তে পারেনি তিনি। এদিকে কি বা কেন কোন কারনে বিদায়ী মেয়রের পরিষদের মেয়াদ শেষ হবার পূর্বে প্রেরিত পদত্যাগপত্রটি কেন গ্রহন করা হচ্ছে না বা হয়নি তাও সুষ্ঠু ভাবে জানানো হচ্ছে না।
বিদায়ী এ মেয়রের মেয়াদ চলতি মাসের ২৩ অক্টোবরে শেষ হয়ে নব নির্বাচিত মেয়রের নতুন পরিষদের মেয়াদকালের শুরু হবে ২২ অক্টোবরে শপথ গ্রহনের পরে।দায়িত্ব বুঝে নেয়া থেকে শুরু হবে নব বিজয়ী মেয়রের পরিষদ বলেও জানা গেছে৷ এবিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ড.জাফর আহমেদ খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
© স্বত্ব আর্থটাইমস্ ২৪.কম
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ জাকারিয়া আলম (দিপু)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ:বরিশাল-৮২০০।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:::
নিউজ মেইল:::
earthtimes24@gmail.com(নিউজ)
news@earthtimes24.com(নিউজ)
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত earthtimes24.com