মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়বে: অর্থমন্ত্রী

লেখক:
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

তিনি বলেছেন, “এ যুদ্ধ শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় (সাপ্লাই চেইন) বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের বাজারে এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু

 

রবিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বৈঠকটি ছিল স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি পর্যালোচনার অংশ, যেখানে অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর আঞ্চলিক ইস্যু নয়, এটি পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে তেল ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়ার প্রবণতা দেখা দেবে।”

 

তিনি আরো বলেন, “বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে খাদ্য, জ্বালানি, ভোগ্যপণ্য—সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ে। সাপ্লাই চেইন যখন ডিজরাপ্টেড হয়, তখন কোনো দেশই এর বাইরে থাকতে পারে না। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়,” বলেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকার আপাতত দেশের ভেতরে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং সরাসরি মূল্য সমন্বয় থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করছে। তবে এই অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে রাখা কঠিন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

 

“আমরা জনগণের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ কম রাখতে চেষ্টা করছি। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ যদি বাড়তেই থাকে, তাহলে একসময় তা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না,” যোগ করেন তিনি।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারি তহবিল থেকে ভর্তুকি দিয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু এতে আর্থিক চাপ বাড়ছে। “এভাবে যদি তহবিল থেকে ক্রমাগত ব্যয় বাড়তে থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে,” সতর্ক করেন তিনি।