ভুল সিদ্ধান্তে ভুগল বাংলাদেশ

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

সকালে ঝলমলে রোদ্দুর, দেখলেন কোথাও মেঘের আনাগোনা নেই। দিনের শুরু এত সুন্দর, দুপুর না হতেই হঠাৎ আকাশজুড়ে মেঘমল্লার ভিড়। দিনের কী শুরু আর কী সেটির পরিণতি! আজ দুবাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে ঠিক এটাই হলো। ফাইনালের চাপ সামলে এর চেয়ে সুন্দর শুরু আর কী হতে পারে! সুন্দর একটা শুরুর পর হঠাৎ ধেয়ে এল ঝড়। সেটিতে সামলে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ফাইনালের চাপে চিঁড়েচ্যাপ্টা বাংলাদেশ। যে দল বিনা উইকেটে ১২০ করে, ৪৮.৩ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে তাদের স্কোর ২২২।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তুলেছেন। লিটন দাসের আউটটি নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন। বানভাসি স্রোতের মতো ছড়িয়ে পড়ছে আউটের ভিডিও ও ছবি। লিটনের পা বিহাইন্ড দ্য লাইন ছিল কি না, বেনিফিট অব ডাউট ব্যাটসম্যানের পক্ষে কেন গেল না…এসব নিয়ে তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ করছেন সমর্থকেরা। বাংলাদেশ অবশ্যই ভুল সিদ্ধান্তের শিকার। তবে সেটা আম্পায়ারের, নাকি ব্যাটসম্যানদের? ক্ষোভটা শুধু তৃতীয় আম্পায়ারের ওপর বরাদ্দ করে দিলে ব্যাটসম্যানদের ভুল সিদ্ধান্তগুলো সব আড়ালে চলে যাবে। এক ইনিংসে তিন-তিনটা রান আউট আর দুটি স্টাম্পিং, এটাই বলে দিচ্ছে সিদ্ধান্ত নিতে একের পর এক ভুল করেছেন ব্যাটসম্যানরা। ভুল করেছেন মিডল অর্ডারের দুই প্রধান ভরসা মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। ওই সময়ে এমন শট খেলার সিদ্ধান্ত মস্ত বড় ভুল। আট ব্যাটসম্যানের দুই অঙ্ক ছুঁতে না-পারা, আসল প্রয়োজনের দিনে মিডল অর্ডারের পুরো ফ্লপ মেরে যাওয়া…বাংলাদেশের আশার প্রায় সমাধি হয়ে গেল। ম্যাচের অর্ধেকটা বাকি। তবে এই ফাইনাল জিততে না-পারলে যাবতীয় ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কোরাসের মধ্যে এই প্রশ্নটাও কেউ হয়তো তুলবেন, ফাইনাল জেতার সামর্থ্যই কি নেই বাংলাদেশের?

মাঝে একটা ঝড় গেছে। তবুও সেই ঝড়কে বাংলাদেশের কাছে ‘ঝড়’ মনে হতো না, আশার প্রদীপ হয়ে যে লিটন দাস ছিলেন। এই প্রতিভাবান তরুণ ওপেনারের কাছে দলের অনেক প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশার প্রতিদান দেওয়ার মোক্ষম উপলক্ষ হিসেবে দুবাইয়ে ভারতের বিপক্ষে আজকের ফাইনালকে বেছে নিয়েছিলেন লিটন। সেঞ্চুরি করলেন। সেই সেঞ্চুরির সৌজন্যে বাংলাদেশ করতে পারল ২২২ রান। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আত্মহত্যার মিছিলে সবচেয়ে বড় আফসোস হয়ে থাকল লিটনের আউটটাই। কুলদীপ যাদবের গুগলিটা ঠিকঠাক ফ্লিক করতে পারেননি লিটন। ত্বরিত গতিতে তাঁকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলল মহেন্দ্র সিং ধোনির অভিজ্ঞ গ্লাভস। টিভি রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগল তৃতীয় আম্পায়ারের। শেষ পর্যন্ত তিনি আউটের অ্যানিমেশন চালিয়ে দিতে বললেন গ্যালারির বোর্ডে। বাংলাদেশের সমর্থকদের হতাশার কেন্দ্রে চলে গেল এই সিদ্ধান্ত।

স্টাম্পড হয়ে ১১৭ বলে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১২১ করে থামতে হয়েছে লিটনকে। তিনি থাকলে স্কোরটা আরও বড় হতো। তবুও লিটন বাহাবা পাবেন, নিজের কাজটা দুর্দান্তভাবে করেছেন। এই গরমের মধ্যে, অন্যপাশে সতীর্থদের উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেও শুরু থেকে ৪১তম ওভার পর্যন্ত উইকেটে ছিলেন। ওপেনাররা রান পাচ্ছেন না, ওপেনিং জুটি দাঁড়াচ্ছে না, টপ অর্ডার নিষ্প্রভ—কত হাহাকার গত কিছুদিনে। সেই হাহাকার আজ দূর হলেও ডাব্বা মারল মিডল অর্ডার। যে মিডল অর্ডার বাংলাদেশকে ফাইনালে নিয়ে এলে, মোক্ষম সময়ে সেটি কি না ধসে পড়ল বালুর বাঁধের মতো!

ওপেনিং জুটিতে মেহেদী হাসান মিরাজকে লিটনের সঙ্গে পাঠিয়ে আজ একটা ফাটকাই খেলেছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। ফাটকাটা কাজেও লেগেছে দারুণভাবে। লিটন-মিরাজের ওপেনিং জুটি ১২০ রান এনে দিয়ে রেকর্ড পাতায় খানিকটা ওলট-পালট হয়েছে। ১১ ইনিংস পর উদ্বোধনী জুটিতে ৫০ পেরিয়েছে বাংলাদেশ। ২৬ ইনিংস পর পেরিয়েছে ১০০। ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ শতরানের উদ্বোধনী জুটি হয়েছিল। বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডেতে ১৬তম শতরানের জুটি। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। ২০১৪ এশিয়া কাপে এনামুল হক ও ইমরুল কায়েসের উদ্বোধনী জুটি তুলেছিল ১৫০ রান। লিটন-মিরাজের জুটিটা থাকলে রেকর্ড বইয়ে আরও কত কিছু হতো! সেটি হয়নি। তবে ইনিংসের ভিতটা অসাধারণ করে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার। সেটি কাজে লাগাতে পারেনি মিডল অর্ডার। ৩১ রানের মধ্যে চলে গেলেন মিরাজ (৩২), ইমরুল কায়েস (২), মুশফিকুর রহিম (৫), মোহাম্মদ মিঠুন (২) ও মাহমুদউল্লাহ (৪)। ইমরুল বাদে বাকি চারজন এত দৃষ্টিকটুভাবে আউট হয়েছেন, কোচ স্টিভ রোডস যখন তাঁদের আউট বিশ্লেষণে বসবেন নিজেরাই লজ্জা পাবেন।

৩১ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারানোর ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৩ ওভার শেষেও যে বাংলাদেশের রানরেট যেখানে ছিল ৬-এর ওপর সেটি নামতে নামতে ৫-এর নিচে চলে এল। এতটাই চাপে পড়ে গেল বাংলাদেশ মাঝে ২৮.৩ থেকে ৩৯.৩ ওভার—৬১ বল বাউন্ডারিই মারতে পারেনি। তবুও লিটন-সৌম্য সরকার ষষ্ঠ উইকেটে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জেগে ওঠার বার্তা দিয়েছিলেন। সেটিও অকালে (৩৭ রান) শেষ হয়ে গেল লিটনের ওই স্টাম্পিংয়ে। লিটন আউট হতেই বাংলাদেশের ইনিংস মুড়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। হলোও তা-ই। শেষ ৪ উইকেট যোগ করতে পারল মাত্র ৩৪ রান।

বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং লাইনআপের সামনে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়া গেল কি না, সেটি নিয়ে সংশয় থাকতে পারে। তবে সংশয় নেই, লিটন মনে রাখার মতো এক ইনিংসই আজ খেলেছেন। ফ্লিক, কাট, পুল; অন সাইড-অফ সাইড—মাঠের চারদিকে ঘুড়িয়ে দেখার মতো সব শট খেলেছেন। ৫২ রানে চাহালের হাত গলে বেঁচে যাওয়াটুকু বাদ দিলে, একাই এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ভারতীয় বোলারদের যেভাবে শাসিয়েছেন, এক কথায় দুর্দান্ত! বাংলাদেশের আফসোস, ওপেনিং জুটি ভাঙার পর লিটনের পাশে দাঁড়াতে পারলেন না আর কেউ।

অপরাধজাতীয়প্রচ্ছদ এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
কমলাপুর রেলস্টেশনের ঘাস নিয়ে লাইভ করার পর এবার ট্রেনে ওঠার সময় নারী ও বৃদ্ধাদের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফের ফেসবুক লাইভ করলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও বাচ্চাদের নিয়ে যারা রেলে চলাফেরা করেন তাদের প্রতি কি একটু সহায় হবেন- এমন আহ্বান জানান তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ যদি বউ-বাচ্চা, বৃদ্ধা মা-বাবাকে নিয়ে ট্রেনে উঠতে চান তা হলে বউ থাকবে কই আর মা-বাবা থাকবে কই। শুক্রবার (৫ জুলাই) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ফেসবুকে লাইভে এসে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার সুমন। লাইভে এসে প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনে ওঠার সিঁড়ির দূরত্ব দেখিয়ে সুমন বলেন, ‘এই ট্রেনটাকে মিটার গেজ (পরে সংশোধন করে বলেন ব্রডগেজ) বলা হয়। আমার প্রশ্ন হলো-প্ল্যাটফ্রম থেকে দূরত্ব বা উচ্চতা কত? ব্রিটিশ আমলের ট্রেনগুলো ছিল এমন। আপনারা (রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ) নতুন ট্রেন আনলেন কিন্তু প্ল্যাটফর্ম এখনো পুরনো।’ রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত লোকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখেন সবাই, প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনের উচ্চতা দোতলার সমান। কোনো স্টেশনে ট্রেনটি তিন মিনিট থামে। তিন মিনিটে ৫০ জন মানুষ প্রায় দুই তলার সমান উচ্চতায় ওঠা কি সম্ভব?’ রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘রেলমন্ত্রী, ট্রেন আপনি অনেক উঁচু বানিয়ে দিছেন। আর প্ল্যাটফর্ম এখানে বিট্রিশ আমলের। আমি কমলাপুর সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে বলছি। আর গ্রামের স্টেশনগুলোর অবস্থা তো আরও খারাপ। সেখানে ট্রেনে উঠতে তো রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। বউ বাচ্চা নিয়ে ওঠা একটা বে-ইজ্জতের কারবার।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুনিয়া এগোচ্ছে, সব কিছু এগোচ্ছে। রাতারাতি পরিবর্তন করতে পারবেন না। তবে ব্রেইনে আনেন পরিবর্তন করার। আপনারা বউ-বাচ্চা লইয়া ট্রেনে যাতায়াত করবেন কি-না জানি না। তবে, এই প্ল্যাটফর্ম ট্রেনের সমান করতে কোটি কোটি টাকার দরকার পড়বে না। আশা করি রেলমন্ত্রীসহ সকলেই এর প্রতি সদয় হবেন।’ এর আগে (৩০ মে) ব্যারিস্টার সুমন স্টেশনের সামনে রেললাইনের ওপর বেড়ে ওঠা ঘাস কেটে পরিচ্ছন্ন করার অনুরোধ জানিয়ে তার নিজের ফেসবুক পেজে লাইভ দেন। এর পরদিনই (শুক্রবার) সেসব ঘাস কেটে পরিষ্কার করে ফেলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর জন্য ট্রেনে তুলে দিতে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সেখানে তিনি দেখেন, রেললাইনের ওপর বড় বড় ঘাস জন্মেছে। যা কাটার জন্য কারো সময় নেই। ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘রেলের সময় নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। মোটামুটি ভালোই চলতেছে। এজন্য রেল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।’ ওই লাইভে তিনি আরও বলেন, এটা দেশের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশন। এটা কেন্দ্রীয় রেল স্টেশন। এ সময় তিনি এক হাত লম্বা লম্বা ঘাস দেখিয়ে বলেন, ‘কিছু লোক লাগিয়ে ঘাসগুলো পরিষ্কার করলে স্টেশনটা অনেক সুন্দর হয়ে যেত।’
৭ years ago