বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তীব্র মানসিক চাপে থাকে : ইউজিসি চেয়ারম্যান

লেখক:
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

নানা কারণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে থাকে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। 

মঙ্গলবার (০৫ মে) ইউনেস্কো বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সাঙ্গে আয়োজিত সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব প্রদান করেন ড. সুজান ভাইজ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান নরিহিড ফুরুকাওয়া, ভারতের ইউনেস্কো মহাত্মা গান্ধী ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন ফর পিস অ্যান্ড সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (ইউনেস্কো এমজিআইইপি) অ্যাসোসিয়েট প্রজেক্ট অফিসার ড. রিচা বানশাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সৈয়দ তানভীর রহমান এবং ইউনেস্কোর প্রোগ্রাম অফিসার (শিক্ষা) রাজু দাস।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, নানা কারণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক চাপের কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুষ্ঠু ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮০ শতাংশ শহরের বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসে। শহরের পরিবেশ তাদের অনেকের জন্য সম্পূর্ণ নতুন। এসব শিক্ষার্থীর উল্লেখযোগ্য অংশ সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সদস্য। তাদের অনেকেই পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা বিষয়ে তাদের পর্যাপ্ত ধারণা থাকে না।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, সফট স্কিলের ঘাটতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে না। আবার অনেক শিক্ষার্থীকে নিজের পড়াশোনা ও জীবনযাপনের খরচ বহনের পাশাপাশি পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা করতে হয়। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও হতাশা তৈরি হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সাক্ষাতে ইউজিসি ও ইউনেস্কো সম্ভাব্য প্রকল্পের কার্যক্রম নির্ধারণের জন্য একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়।