কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর বিলের পানি অপসারণে দখল করা সেই ড্রেনেজ খালে খননকাজ চলছে।
শনিবার (১৪ মে) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে এ খনন কাজ শুরু হয়। খাল খনন হলে বিলের অতিরিক্ত পানি দ্রুত অপসারণ হয়ে যাবে। এতে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে স্থানীয় কৃষকদের কয়েক কোটি টাকার স্বপ্নের ফসল। দীর্ঘদিন পর খাল খনন হওয়ায় খুশি কৃষকরা।
ড্রেনেজ খাল দখল করে মাছ চাষ করে আসছিল স্থানীয় দুই মসজিদ কমিটি। তবে নিয়মিত খনন করা হতো না খাল। এতে অবাধ পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয়। ফলে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পাকা ধান, পাট, কলার বাগানসহ কয়েক হাজার বিঘা কৃষি জমি প্লাবিত হয়। এ নিয়ে ১৩ মে ‘খাল দখল করে মাছ চাষ, পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনা মোতাবেক শনিবার বিকেল থেকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খাল খননের কাজ শুরু হয়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এক সময়ের প্রায় ৬০ ফিট প্রস্থের এক কিলোমিটার খাল বর্তমানে মাত্র পাঁচ থেকে সাত ফিটে পরিণত হয়েছে। খালটি প্রশস্ত ও পানি প্রবাহ সচল করতে খনন করা হচ্ছে। আর কৃষকরা দাঁড়িয়ে খনন কাজ দেখছেন।
চর গোবিন্দপুর বিলের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক টুটুল বলেন, ‘বিলের মাঠে ধান, পাট, কলাসহ প্রায় সাড়ে আটবিঘা জমির চাষ আমার। খননের অভাবে খাল দিয়ে পানি বের হয় না। ফলে পানিতে ফসল নষ্ট হয়।এমন খবর প্রকাশের পর খাল খনন শুরু হয়েছে। এবার কৃষকরা বাঁচবে।’
স্থানীয় কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘দুই মসজিদ কমিটি খাল দখল করে মাছ চাষের কারণে বিলের কয়েক হাজার বিঘা জমি পানিতে ডুবে যায়। এখন ইউএনও খাল খনন করে দিচ্ছেন। ঠিকঠাক পানি বের হলে আমাদের ফসল নষ্ট হবে না। আর মসজিদ কমিটিকে মাছ চাষ করতে দেওয়া হবে না ‘
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল বলেন, সাংবাদিক ও ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে কৃষকদের সমস্যাটি জানতে পারি এবং তড়িৎ গতিতে খালটি খননের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি এখন থেকে আর কৃষকদের লোকসান হবে না।