বরিশাল বিভাগের নেই এনজিওগ্রামের ব্যবস্থা, একমাত্র মেশিনটিও অকেজো

লেখক:
প্রকাশ: ৩ years ago

বরিশাল বিভাগের কোথাও নেই এনজিওগ্রাম করার ব্যবস্থা। বিভাগের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একমাত্র এনজিওগ্রাম মেশিনটিও গত তিন বছর ধরে অকেজো। যন্ত্রটি বিকল থাকায় হার্টের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

মাদারীপুরের কালকিনির বাসিন্দা ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম। হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করায় আসেন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) বিভাগে। হাসপাতালে ভর্তি হলে এনজিওগ্রাম পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু হাসপাতালের এনজিওগ্রাম মেশিন অকেজো। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পাড়ি জমাতে হবে রাজধানীতে। এমন খবরে চিন্তিত তার পরিবারের সদস্যরা।

তাজুল ইসলামের স্ত্রী হাসনাহেনা মুক্তি বলেন, এখানে এনজিওগ্রাম মেশিন না থাকাতে আমি পরীক্ষাটা করতে পারলাম না। এটা করাতে যদি ঢাকায় যেতে হয় সেটা তো ব্যয়বহুল যা আমাদের পক্ষেও সম্ভব না।

এমন ঘটনা শুধু তাজুল ইসলামেরই নন একই চিত্র হাসপাতালে হার্টের সেবা নিতে আসা সব রোগীরই।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এনজিওগ্রাম মেশিনটি দ্রুত সংস্কার করার।

২০১৪ সালের ২৩ জুলাই এনজিওগ্রাম মেশিনটি স্থাপনের পর হার্টের রোগীদের স্বল্প খরচে সেবা প্রদান শুরু হয়।২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর হঠাৎ মেশিনটি নষ্ট হলে থমকে যায় সেবা প্রদান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন পড়ে থাকার ফলে অচলের পথে পুরো এনজিওগ্রাম সেটআপ।

হাসপাতালে কর্মরত একজন টেকনিশিয়ান জানান, তারা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। এরপর কর্তৃপক্ষ মেরামতের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এখনো মেরামত সম্পন্ন হয়নি।

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. এম সালেহ উদ্দিন বলেন, একটা মেশিন চলতে হলে নির্দিষ্ট একটা তাপমাত্রায় রেখে চালাতে হয়। তা নাহলে মেশিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আমার মনে হয় সবকিছু বিবেচনা করে এই মেশিন আদৌও চলে কি না, সেটা দেখার বিষয় আছে।

৩ বছর পর চলতি সপ্তাহের মধ্যেই মেশিনটি আবারও সচল হবে বলে দাবি হাসপাতাল পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলামের।

৯ কোটি টাকা ব্যয়ের এ মেশিন চালু ছিল ৬ বছর। এই সময় এনজিওগ্রাম পরীক্ষা হয়েছে ৬১৫ জনের, হার্টে রিং বসানো হয়েছে ৪৬ জনের। এ ছাড়া অস্থায়ী পেসমেকার বসিয়েছে ২ জনের আর স্থায়ী পেসমেকার বসিয়েছে একজনের।