বরিশালের মুলাদী উপজেলার দুর্গম এলাকা আড়িয়াল খাঁ নদের অপরপ্রান্ত চর আলিমাবাদে লুটপাট ও ভাঙচুর শেষে ৯টি বসতঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুবৃত্তরা।
গত ৯ মার্চ কলেজছাত্র আবুল বাশার প্রিন্স হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ওই গ্রামটি প্রায় পুরুষশূন্য। এ সুযোগে গত শনিবার রাত ১১টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গ্রামে প্রবেশ করে ৪টি বাড়ির ৯টি বসতঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় কয়েকটি গোয়ালঘরে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।
রোববার বিকেল ৪টার দিকে মুলাদী থানা পুলিশের ওসি মো. জিয়াউল আহসানের কাছে চর আলিমাবদে ৯টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। ৯টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ অনেক বড় ঘটনা। অথচ চরআলিমাবাদ থেকে সোর্স তাকে এ তথ্য জানায়নি। কেউ কোনো অভিযোগও করেনি। কেউ অভিযোগ নিয়ে আসলে তিনি তদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে ৮-১০ জনের একদল দুর্বৃত্ত চরআলিমাবাদ গ্রামে হানা দেয়। দুর্বৃত্তরা মোস্তফা হাওলাদারের বাড়িতে ৪টি বসতঘর, ২টি গোয়াল ঘর, বাদশা খানের বাড়িতে ৩টি বসতরঘর, ২টি খড়ের স্তূপে এবং নেছার হাওলাদার ও সিকিম হাওলাদারের ১টি বসতঘর ঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর শেষে অগ্নিসংযোগ করে। এতে অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গত ৯ মার্চ কলেজছাত্র আবুল বাশার প্রিন্স হত্যাকাণ্ডের পর থেকে চরআলিমাবাদসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের পুরুষরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে মুলাদীর সীমানা সংলগ্ন মাদারীপুরের কালকীনি উপজেলার রামারপোলের দিকে পালিয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত মোস্তফা হাওলাদারের স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান, প্রিন্স হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশের গ্রেফতার ও প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে ওই গ্রামের পুরুষরা বাড়িতে থাকেন না। তার স্বামী মোস্তফাসহ অনেকে রয়েছেন যারা হত্যা মামলার আসামি না হয়েও হয়রানির ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাড়িগুলোতে অগ্নিসংযোগ করেছে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাদশা খান জানান, গ্রামে আগুন নেভানোর মতো পুরুষ না থাকায় সবগুলো ঘর পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়েছে। মালামাল লুটপাট ও সব আগুনে পুড়ে যায়।