বরিশালে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে সেলাই মেশিন ও অর্থ সহায়তা বিতরণ

লেখক:
প্রকাশ: ৩ years ago

বরিশালে মানবিক জেলা প্রশাসক এর উদ্যোগে কারাবন্দিসহ অনেকের নতুন জীবনের সূচনায় সেলাই মেশিন ও অর্থ সহায়তা বিতরণ করেন জসীম উদ্দীন হায়দার।

আজ ১১ অক্টোবর সোমবার দুপুর ১ টায় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে অপরাধী সংশোধন ও পূনর্বাসন সমিতি, সমাজসেবা অধিদফতর এবং জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে দির্ঘদিন সাজা ভোগ শেষে ২ জন কয়েদীর মুক্তি এবং তাদের নতুন জীবনের সূচনায় জীবিকা নির্বাহের জন্য জেলা প্রশাসক বরিশাল জসীম উদ্দীন হায়দার এর উদ্যোগে এবং অপরাধী সংশোধন ও পূনর্বাসন সমিতির পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক বরিশাল।

জেসমিন বেগম বরিশাল জেলার সদর উপজেলার কাজিপাড়া গ্রামে বসবাস করেন। জেসমিন বেগম কয়েক বছর পূর্বে সাথি আক্তার নামের একজনের কাছ থেকে ব্যবসা করার জন্য ২ লক্ষ টাকা ধার নেন।

জেসমিন সঠিক সময়ে ধারের সব টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। যে টাকা পরিশোধ করেছিল তার কোন ডকুমেন্টস না থাকায় সাথি জেসমিনের বিরুদ্ধে ১০ লক্ষ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলা করেন। গত ১ বছর হাজত খেতে ২৯ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান।

এর মধ্যে জেসমিন হাড়িয়েছে জীবনের সুখ শান্তি হাড়িয়ে স্বামী সন্তান, বর্তমানে জেসমিন নতুন জীবন শুরু করেছে সে নব্য মুসলমান একজনকে বিবাহ করেন তার স্বামী দিনমজুর।

তার একার আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পরেছে। এদিকে জেসমিন হাজতে থাকা কালিন অপরাধী সংশোধন ও পূনর্বাসন সমিতির মাধ্যমে সেলাইয়ের কাজ শিখেন আজ জেলা প্রশাসক এর পক্ষ থেকে নতুন জীবনের সূচনায় একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।

নুরুন নাহার বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় বসবাস করেন তার স্বামী দিনমজুর ২ মেয়ে ১ ছেলে নিয়ে তাদের পরিবার কিছুদিন পূর্বে জমিজমা সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে যালের সাথে ঝগড়া হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার দেবরের বউ মিথ্যা মারামারি সংশ্লিষ্ট মামলা করেন।

গত ৩ মাস কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পান। তার স্বামী বর্তমানে অসুস্থ এমতা অবস্থায় তাদের সংসার জীবন অতিবাহিত করা কষ্টসাধ্য হয়ে পরেছে।

জেলা প্রশাসক বরিশাল তার নতুন জীবনের সূচনায় একটি সেলাই মেশিন বিতরণ করেন। আফসানা সুমি বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকঠী গ্রামের বাসিন্দা গত ৬ বছর পূর্বে তার পিতা মৃত্যু বরণ করেন বর্তমানে তার মাসহ পরিবারে ৪ জন সদস্য।

সুমির একার পক্ষে টিউশনি করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পরেছে সুমি বাবার মৃত্যুর পরেও কষ্ট করে সে মাস্টার্স পাশ করে একটি চাকরি খুঁজছে।

করোনা কালিন টিউশনি পারানো সম্ভব হচ্ছেনা বিধায় কিছু করার প্রয়াস নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে সেলাই মেশিন চেয়ে আবেদন করেন আজ তাকে জেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।

তাসলিমা বেগম নগরীর রসুলপুরে বসবাস করেন স্বামী দিনমজুর ৫ সদস্যদের সংসার চালানো তার একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছেনা এমন পরিস্থিতিতে তাসলিমা নিজেই মাছ কিনে ফেরি করে বিক্রয় করে সংসার চালাচ্ছে।

করোনায় তার পুজি শেষ হয়ে গেলে বিপাকে পড়ে তার সংসার এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক বরাবর আর্থীক সহযোগিতার আবেদন করলে আজ জেলা প্রশাসক এর পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়।

মোঃ আলমগীর হোসেন পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রিরি, করোনা কালিল কোন কাজ না থাকায় সংসার চালানোর জন্য তার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দেয়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক’ হলেও কর্মজীবনে ফেরাটা সহজ হচ্ছেনা আলমগীর হোসেনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় বর্তমানে কোনমতে খেয়ে না খেয়ে জীবন যাপন করছে।

এমন পরিস্থিতিতে কোন সমাধান না পেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর ইলেকট্রিক উপকরণ কেনার সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেন আজ জেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে একটি ইলেকট্রিক টুলস বক্স কিনে দেওয়া হয়।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী চান্দু মোল্লা নগরীর কেডিসি এলাকায় বসবাস করে জন্ম অন্ধত্ব নিয়ে ভিক্ষা করে ৩ ছেলেকে বড় করেন। দারিদ্রতার কষাঘাতে জীবনের রং এখন অন্ধকার চান্দু মোল্লার।

২ ছেলে বাবাকে পরিচয় না দিলেও এক ছেলের কাছে থাকেন চান্দু। বেশ কিছুদিন হল স্ট্রোক করে এখন বিছানায় সময় কাটে চান্দুর। আজ জেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা ও পূর্ণবাসন এর লক্ষ্যে ১০ হাজার টাকার অনুদান বিতরণ করা হয়।

আজ জেলা প্রশাসক বরিশাল জসীম উদ্দীন হায়দার তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য সেলাই মেশিন ও নগদ টাকা প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বরিশাল প্রশান্ত কুমার দাস, উপ-পরিচালক জেলা সমাজসেবা কার্যালয় বরিশাল আল-মামুন তালুকদার, সহকারী কমিশনার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বরিশাল সুব্রত বিশ্বাস দাস, প্রাবেশন অফিসার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বরিশাল সাজ্জাদ পারভেজসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক হিসেবে জসীম উদ্দীন হায়দার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বরিশাল বাসির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে পাশাপাশি দরিদ্র অসহায় মানুষের জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। নারী নেতৃত্ব বিকাশে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে।