প্রথমে শাওনকে আঘাত পরে শামসুন্নাহারকে হত্যা করে জনি

লেখক:
প্রকাশ: ৮ years ago

রাজধানীর কাকরাইলে মা শাহসুন্নাহার ও ছেলে শাওনকে ‘হত্যাকারী’ আল আমিন ওরফে জনিকে গোপালগঞ্জের মোকছেদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। পরে র‌্যাবের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছে জনি। বোনকে সুখী দেখতে তিনদিন আগে সে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেরর ভিত্তিতে এ কথা জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি বলেন, চার বছর আগে অভিনেত্রী শারমিন মুক্তার সঙ্গে বিয়ে হয় আবদুল করিমের। বর্তমানে মুক্তা তার মা ও ভাই জনিকে নিয়ে পল্টনের একটি বাসায় থাকেন। করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার পর করিমও তাদের সঙ্গে থাকতেন।

মুফতি মাহমুদ বলেন, বিয়ের পর থেকে করিম ও মুক্তার মধ্যে বিভিন্ন আর্থিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়। করিমের অধিকাংশ সম্পত্তির মালিক প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার হওয়ায় এ নিয়ে মুক্তার মধ্যে অসন্তোস ছিল। প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারের প্ররোচনায় তিন-চার মাস আগে তৃতীয় স্ত্রী মুক্তাকে তালাকের প্রক্রিয়া শুরু করেন করিম। এ কারণে সম্প্রতি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন মুক্তা। বোনের স্বার্থ বিবেচনায় পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী শামসুন্নাহারকে খুনের সিদ্ধান্ত নেয় জনি।

জনি র‌্যাবকে জানায়, ঘটনার আগের দিন ৩১ অক্টোবর নিউমার্কেট থেকে ১১০০ টাকায় ১১ ইঞ্চির একটি ছুরি কিনেন। ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাকরাইলের বাসায় ঢুকে শামসুন্নাহারের ছোট ছেলে শাওনকে ছুরিকাঘাত করে চুপ করে বসে থাকতে বলেন। পরে শামসুন্নাহারকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। তখন শাওন এগিয়ে গেলে তার গলাতেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে জনি। পরে শাওন দৌড়ে নিচে নামতে চাইলে জনি তাকে থামতে বলেন। জখমপ্রাপ্ত শাওন হঠাৎ চতুর্থ তলার সিড়িতে পড়ে যায়। ‘অপেশাদার খুনি’ জনির ছুরিকাঘাতের সময় দুটি আঙ্গুল কেটে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগ থেকে ভুয়া নাম এন্ট্রি করে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয় জনি।

এদিকে ঘটনার কিছুক্ষণ পর উপরে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনে যখন দারোয়ান উপরে যাচ্ছিল, হত্যা করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাওয়ার সময় জনিই দারোয়ানকে বলেন, উপরে মারামারি হচ্ছে। দারওয়ানকে জনির ছবি দেখানো হলে সে তাকে শনাক্ত করে।

মুফতি মাহমুদ জানান, জনি আগে থেকেই একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ব্যাগে করে জামা-কাপড় রেখে যায়। সেখানে গিয়ে রক্তাক্ত পোষাক পরিবর্তন করে ভিন্ন নামে ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। তারপর ঢাকাতেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন এবং পরে গোপালগঞ্জে আরেক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় করিম ও মুক্তা জড়িত ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মুফতি মাহমুদ বলেন, খুনের পরিকল্পনায় তারা জড়িত কিনা আমরা এখনো জনতে পারিনি। তদন্তের পর তা বেরিয়ে আসবে।

উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যায় কাকরাইলের ভিআইপির রোডের ৭৯/১ নম্বর বাসার গৃহকর্তা আবদুল করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার করিম (৪৬) ও তার ছেলে শাওনকে (১৯) গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আব্দুল করিম ও তার তৃতীয় স্ত্রী শারমিন মুক্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে হত্যা মামলা দায়ের করে ‘পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

অর্থনীতিজাতীয়প্রচ্ছদপ্রশাসন এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
কমলাপুর রেলস্টেশনের ঘাস নিয়ে লাইভ করার পর এবার ট্রেনে ওঠার সময় নারী ও বৃদ্ধাদের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফের ফেসবুক লাইভ করলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও বাচ্চাদের নিয়ে যারা রেলে চলাফেরা করেন তাদের প্রতি কি একটু সহায় হবেন- এমন আহ্বান জানান তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ যদি বউ-বাচ্চা, বৃদ্ধা মা-বাবাকে নিয়ে ট্রেনে উঠতে চান তা হলে বউ থাকবে কই আর মা-বাবা থাকবে কই। শুক্রবার (৫ জুলাই) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ফেসবুকে লাইভে এসে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার সুমন। লাইভে এসে প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনে ওঠার সিঁড়ির দূরত্ব দেখিয়ে সুমন বলেন, ‘এই ট্রেনটাকে মিটার গেজ (পরে সংশোধন করে বলেন ব্রডগেজ) বলা হয়। আমার প্রশ্ন হলো-প্ল্যাটফ্রম থেকে দূরত্ব বা উচ্চতা কত? ব্রিটিশ আমলের ট্রেনগুলো ছিল এমন। আপনারা (রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ) নতুন ট্রেন আনলেন কিন্তু প্ল্যাটফর্ম এখনো পুরনো।’ রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত লোকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখেন সবাই, প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনের উচ্চতা দোতলার সমান। কোনো স্টেশনে ট্রেনটি তিন মিনিট থামে। তিন মিনিটে ৫০ জন মানুষ প্রায় দুই তলার সমান উচ্চতায় ওঠা কি সম্ভব?’ রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘রেলমন্ত্রী, ট্রেন আপনি অনেক উঁচু বানিয়ে দিছেন। আর প্ল্যাটফর্ম এখানে বিট্রিশ আমলের। আমি কমলাপুর সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে বলছি। আর গ্রামের স্টেশনগুলোর অবস্থা তো আরও খারাপ। সেখানে ট্রেনে উঠতে তো রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। বউ বাচ্চা নিয়ে ওঠা একটা বে-ইজ্জতের কারবার।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুনিয়া এগোচ্ছে, সব কিছু এগোচ্ছে। রাতারাতি পরিবর্তন করতে পারবেন না। তবে ব্রেইনে আনেন পরিবর্তন করার। আপনারা বউ-বাচ্চা লইয়া ট্রেনে যাতায়াত করবেন কি-না জানি না। তবে, এই প্ল্যাটফর্ম ট্রেনের সমান করতে কোটি কোটি টাকার দরকার পড়বে না। আশা করি রেলমন্ত্রীসহ সকলেই এর প্রতি সদয় হবেন।’ এর আগে (৩০ মে) ব্যারিস্টার সুমন স্টেশনের সামনে রেললাইনের ওপর বেড়ে ওঠা ঘাস কেটে পরিচ্ছন্ন করার অনুরোধ জানিয়ে তার নিজের ফেসবুক পেজে লাইভ দেন। এর পরদিনই (শুক্রবার) সেসব ঘাস কেটে পরিষ্কার করে ফেলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর জন্য ট্রেনে তুলে দিতে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সেখানে তিনি দেখেন, রেললাইনের ওপর বড় বড় ঘাস জন্মেছে। যা কাটার জন্য কারো সময় নেই। ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘রেলের সময় নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। মোটামুটি ভালোই চলতেছে। এজন্য রেল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।’ ওই লাইভে তিনি আরও বলেন, এটা দেশের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশন। এটা কেন্দ্রীয় রেল স্টেশন। এ সময় তিনি এক হাত লম্বা লম্বা ঘাস দেখিয়ে বলেন, ‘কিছু লোক লাগিয়ে ঘাসগুলো পরিষ্কার করলে স্টেশনটা অনেক সুন্দর হয়ে যেত।’
৭ years ago