দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলার সাথে সরাসরি সড়ক পথে বরিশালসহ আশপাশের জেলাগুলোর যোগাযোগ সহজ করতে নির্মিত হবে দেশের দীর্ঘতম সেতু। যার দৈর্ঘ্য হবে ৮ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার। যা নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর চেয়েও দীর্ঘতম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সেতুটি নির্মাণের জন্য সেতু বিভাগ প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (পিডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। বিশাল দৈর্ঘ্যের এ সেতুটির প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা। অর্থের সন্ধানে পরিকল্পনা কমিশন পিডিপিপি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠিয়েছে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, ইআরডি অর্থ সংগ্রহের জন্য জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ও চীনসহ কয়েকটি দেশ ও সংস্থার সাথে যোগাযোগ করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইআরডির এক কর্মকর্তা বলেন, বরিশাল ও ভোলাকে সংযুক্ত করতে দেশের সবচেয়ে বড় সেতু নির্মাণ করা হবে। যা বর্তমান সরকারের অন্যতম মেগা প্রকল্প। সেতুটি নির্মাণের জন্য আমরা উন্নয়ন সহযোগি খুঁজছি। ইতোমধে কয়েকটি দেশ ও সংস্থাকে চিঠি দিয়েছি। বাংলাদেশ এখন ঋণ পরিশোধে অন্যতম। আশা করছি, খুব শীঘ্রই এ কাজের উন্নয়ন সহযোগি খুঁজে পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, আমরা ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ধীরগতিতেই এগোচ্ছি।
সেতু বিভাগের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ‘কন্সট্রাকশন অব ভোলা ব্রিজ অন বরিশাল-ভোলা রোড ওভার দ্যা রিভার তেঁতুলিয়া অ্যান্ড কালাবদর’ প্রকল্পের আওতায় বৃহৎ সেতুটি নির্মিত হবে। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য, বরিশাল ও ভোলা জেলার মধ্যবর্তী তেঁতুলিয়া ও কালাবদর নদীর ওপর সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলা জেলার সাথে দেশের মূল অংশ বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা।
প্রকল্পের আওতায় ৪৮৫ দশমিক ৯৭ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ১ দশমিক ০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ্যাপ্রোচ সেতু, দুই কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ও চার কিলোমিটার নদীশাসনের কাজ করা হবে। যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। আর পদ্মা সেতু ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। এতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে মোট ৪১টি স্প্যান। পদ্মা সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। স্বপ্নের এ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে ব্যয় তৃতীয় দফায় আরও ১ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। এতে পদ্মা সেতুর মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে ভোলা ও বরিশাল জেলা সংযোগ সেতু নির্মাণে মোট ব্যায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। এ জন্যই বৈদেশিক ঋণ সহায়তার ওপর ভিত্তি করে সরকারের সেতুটি নির্মাণের ইচ্ছা।
সূত্রমতে, ভোলা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দ্বীপ। এর চারপাশে লক্ষীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও বঙ্গোপসাগর। এ জেলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে জেলাটি দেশের মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন। বর্তমানে ফেরি ও অন্যান্য নৌযানের মাধ্যমে ভোলার সাথে পাশের জেলাগুলোর যোগাযোগ চালু রয়েছে। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ভোলা থেকে অন্য জেলাগুলোয় পণ্য আনা-নেওয়া ও যাতায়াত বেশ কঠিন। এটি জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
ভোলা ও বরিশালে দেশের দীর্ঘতম সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে সেতু বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সেতুটি নির্মিত হলে ভোলা পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ঢাকার সাথে সরাসরি সংযুক্ত হবে। এতে যাতায়াত ও উৎপাদন খরচ কমবে। ওই এলাকায় নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে। যা দরিদ্রতা কমিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এজন্য সেতুটি নির্মাণে আমরা জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
© স্বত্ব আর্থটাইমস্ ২৪.কম
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ জাকারিয়া আলম (দিপু)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ:বরিশাল-৮২০০।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:::
নিউজ মেইল:::
earthtimes24@gmail.com(নিউজ)
news@earthtimes24.com(নিউজ)
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত earthtimes24.com