কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ঝুঁকি নিয়ে চলছে বরিশালের অভ্যন্তরীণ নৌপথে স্পিডবোট। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে এসব স্পিডবোট চালকের বিরুদ্ধে।
বরিশালের অভ্যন্তরীণ নৌপথে স্পিডবোট চলাচলে বাড়তি ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি রাতেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলাচল করছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তা উপেক্ষা করছেন চালকরা।এতে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে যাত্রীসাধারণ।
বিশেষ করে রাতে চলাচল বন্ধ থাকলেও প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে রাতেও দ্রুতগতিতে চলাচল করছে। আর এর ফলে দুর্ঘটনায় পড়ছে স্পিডবোট। স্পিডবোট দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান পুলিশ বা প্রশাসনের কাছে নেই। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও স্পিডবোট মালিকদের তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ গত কয়েকদিন পূর্বে রাতে সাহেবের হাট এলাকায় দুটি স্পিডবোটে মুখোমুখো সংঘর্ষ হয়।
গত বছরের ৩১ আগস্ট রাতে হিজলার মেঘনায় দুটি স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারী নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় মামলা কিংবা গ্রেপ্তার হয়নি কেউ। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার লাহারহাট এলাকায় দুটি স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মা-মেয়ে নিহত হন। ওই ঘটনায় দুই চিকিৎসক গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনার পরের দিন বন্দর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
ডিসিঘাট স্পিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি কালাম শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল আলমকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করে।ডিসিঘাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বড় স্পিডবোটে কোন ধরনের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ১২ থেকে ১৪ জন যাত্রী তোলা হচ্ছে। এতে কোনো যাত্রী আপত্তি করলে চালক বা মালিক পক্ষের লোকজন তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। বোটে রাখা হয় আট থেকে ১০টি লাইফ জ্যাকেট।
যার মন চাইছে পরছে। নেই কোনো বাধ্যবাধকতা। স্পিডবোটের সঙ্গে নেই বয়া। তবে বরিশাল থেকে ভোলা পর্যন্ত জনপ্রতি ২৫০ টাকা ভাড়া থাকলেও প্রতিটি যাত্রীদের কাছ থেকে বর্তমানে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ডিসিঘাট স্পিডবোট মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের ডিসিঘাট থেকে ভোলার ভেদুরিয়া, বরিশালের লাহারহাট থেকে ভেদুরিয়া, বরিশালের বুখাইনগর থেকে মেহেন্দিগঞ্জসহ বিভিন্ন নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল করছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগ পোহাতে হয় বরিশাল-ভোলা (ভেদুরিয়া) এবং লাহারহাট ভেদুরিয়া রুটের যাত্রীদের। বিআইডাব্লিউটিএ বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক বলেন,‘অনিয়মের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। পাশাপাশি মানুষ সচেতন না হলে এসব দুর্ঘটনা বন্ধ হবে না।
মানুষ রাতে না উঠলে স্পিডবোট চলবে না।’এদিকে বেপরোয়া স্পিডবোর্ড নিয়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন নাগরিক সমাজ। তারা দ্রুত এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।