টেস্ট ক্রিকেটকে বলা হয় রাজকীয় খেলা। ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য্য এখানে ফুটে ওঠে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় টেস্টকে পেছনে ফেলে এক সময় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ওয়ানডে ক্রিকেট। আর সেটাকেও পেছনে ফেলে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় চার-ছক্কার ধুন্ধুমার ফরম্যাট টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। হয়তো সেদিন বেশি দূরে নেই যখন টি-টেন ক্রিকেটও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। কেবল আইসিসির অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায়।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের রমরম অবস্থার কারণেই ক্রিকেট খেলুড়ে বিভিন্ন দেশে বছর বছর চালু হচ্ছে নতুন নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। মুখে সবাই টেস্ট ক্রিকেটের বন্দনা করলেও ক্রিকেট বিশ্ব মজেছে এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। আর মাত্র দুদিন পরই মাঠে গড়াবে আরও একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। তার আগে চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপের আদ্যোপান্ত।
২০০৭ বিশ্বকাপ:
১২ দলের অংশগ্রহণে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর। সেবার ফাইনাল খেলেছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। ফাইনালে পাকিস্তানকে মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত।
অবশ্য টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছিলেন শহীদ আফ্রিদি। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছিলেন ওমর গুল (১৩)। আর সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন (২৬৫)।
২০০৯ বিশ্বকাপ:
এবারও যথারীতি ১২টি দল অংশ নিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল ইংল্যান্ড। ফাইনালে লড়েছিল শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। শহীদ আফ্রিদির ঝড়ে ৮ উইকেটের জয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান। যথারীতি এই আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন ওমর গুল (১৩)। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন শ্রীলঙ্কার তিলকারত্নে দিলশান (৩১৭)। সিরিজ সেরাও হয়েছিলেন তিনি।
২০১০ বিশ্বকাপ:
ওয়েস্ট ইন্ডিজে বসেছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসর। ১২ দলের অংশগ্রহণে মোট ২৭টি ম্যাচ হয়েছিল। ফাইনালে উঠেছিল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ফাইনালে ৬ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার করা ১৪৭ রান ১৭ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় ইংলিশরা। জিতে নেয় তাদের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা।
সিরিজ সেরা হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের কেভিন পিটারসেন। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে (৩০২)। আর সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার দ্রিক ন্যানেস।
২০১২ বিশ্বকাপ:
চতুর্থ এই আসরের আয়োজক ছিল শ্রীলঙ্কা। স্বাগতিকদের হারিয়ে লঙ্কায় ক্যারিবিয়ান পতাকা উড়িয়েছিলেন মারলন স্যামুয়েলস, সুনীল নারিন ও ড্যারেন স্যামিরা। ১২ দলের টুর্নামেন্টের ফাইনালে ৬ উইকেটে উইন্ডিজের করা ১৩৭ রান তাড়া করতে নেমে ১৮.৪ ওভারে ১০১ রানে অলআউট হয়ে যায় লঙ্কানরা।
অবশ্য সিরিজ সেরা হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হয়েছিলেন তিনি (২৪৯ রান)। আর সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার অজান্তা মেন্ডিস (১৫ উইকেট)।
২০১৪:
যৌথভাবে ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার পর সেবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের একক আয়োজক হয়েছিল বাংলাদেশ। এই আসরে দলসংখ্যা ১২ থেকে বেড়ে হয় ১৬। ম্যাচ বেড়ে হয় ৩৫। মিরপুরে ফাইনালে লড়েছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। আগের আসরে ঘরের মাঠে শিরোপা হাতছাড়া করলেও এবার ভারতকে হারিয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের প্রথম শিরোপা ঘরে তোলে লঙ্কানরা। ফাইনালে ৪ উইকেট হারিয়ে ভারতের করা ১৩০ রান কুমার সাঙ্গাকারার অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংসে ভর করে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭.৫ ওভারেই জিতে যায় লঙ্কানরা।
টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছিলেন ভারতের বিরাট কোহলি। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হয়েছিলেন তিনি (৩১৯ রান)। আর ১২টি করে উইকেট শিকার করে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির ও নেদারল্যান্ডসের আসহান মালিক।
২০১৬:
সেবার বিশ্বকাপের আয়োজক হয়েছিল ভারত। ১৬ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই আসরের ফাইনাল খেলেছিল ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালে কার্লোস ব্রেথওয়েট টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্তটি উপহার দেন। ইংল্যান্ডের করা ১৫৫ রান তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে জিততে ১৯ রানের প্রয়োজন ছিল উইন্ডিজের। বেন স্টোকসকে পরপর চার বলে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে তাদের দ্বিতীয় শিরোপা জয় নিশ্চিত করেন ব্রেথওয়েট।
এবারও সিরিজ সেরা হয়েছিলেন বিরাট কোহলি। তবে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন বাংলাদেশের তামিম ইকবাল (২৯৫ রান)। আর সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছিলেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী।
২০২১:
অবশ্য এই আসরটি হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায়। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে নিরপেক্ষ ভেন্যু সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর। ১৬ দলের এই টুর্নামেন্টে মোট ম্যাচ হয়েছিল ৪৫টি। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্য সুপার-১২ থেকেই বিদায় নিয়েছিল। ফাইনাল খেলেছিল নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।
ফাইনালে কেন উইলিয়ামসনের ৮৫ রানের অনবদ্য ইনিংসে ভর করে ৪ উইকেটে ১৭২ রান তোলে কিউইরা। জবাবে ডেভিড ওয়ার্নারের ৫৪ ও মিচেল মার্শের অপরাজিত ৭৭ রানের ইনিংসে ভর করে ৭ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখে প্রথম শিরোপা জিতে নেয় অজিরা।
ফাইনালের সেরা হয়েছিলেন মার্শ। আর ২৮৯ রান করে টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলন বাবর আজম (৩০৩) আর উইকেট শিকারি হয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (১৬টি)।
২০২২ বিশ্বকাপ:
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অষ্টম আসর শুরু হচ্ছে রোববার থেকে। অস্ট্রেলিয়ার ৭টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে ১৬ দলের ৪৫ ম্যাচের এই টুর্নামেন্ট।