নিউইয়র্ক , ১৭ মার্চ ২০২১ : আজ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিউইয়র্ক এর যৌথ উদ্যোগে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি , জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস -২০২১ উদযাপন করা হয় । দুই পর্বে ভাগ করে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়ােজন করা হয় । সকালে স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেট স্ব স্ব কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিবসটির কর্মসূচি শুরু করে । এরপর জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয় । সকালের আয়ােজনের মধ্যে আরও ছিল দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি , প্রধানমন্ত্রী , পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ , মুক্ত আলােচনা এবং জন্মদিনের কেক কাটা পূর্ব । স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এবং কনস্যুলেট জেনারেল – এর অডিটোরিয়ামে আলাদা আলাদাভাবে আয়ােজিত সকালের পর্বে জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের শাহাদাত বরণকারী সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মােনাজাত করা হয় । বিকালে স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেটের যৌথ উদ্যোগে শিশুদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভার্চুয়ালভাবে অনুষ্ঠিত হয় শিশু আনন্দমেলা । এতে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশী শিশুদের অংশগ্রহণে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ উপস্থাপন এবং নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্যে পত্রলিখন প্রতিযােগিতার বিজয়ীদের নাম ঘােষণা করা হয় ।
বিজয়ীদের ভাষণ উপস্থাপনের ভিডিও ও পত্র ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয় । শিশুদের অংশগ্রহণে “ শুনাে একটি মুজিবের কণ্ঠে সমবেত সঙ্গীত , কবিতা পাঠ ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়ােজনে মুগ্ধ হন দর্শকগণ । অনুষ্ঠানটির র্যাফেল ড্র পর্ব অংশগ্রহণকারী শিশুদের বাড়তি আনন্দ এনে দেয় । বিকালের এই ভার্চুয়াল আয়ােজনে জাতির পিতার জন্ম থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠা , বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম , স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তাঁর অবদানের উপর একটি শিশুতােষ গ্রাফিক্স ভিডিও প্রদর্শন করা হয় । সকালের আলােচনা পর্ব এবং বিকালের শিশু আনন্দমেলা ’ উভয় পর্বেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা । এছাড়া শিশুদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল , নিউইয়র্ক এর কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেছা । স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন , “ বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা । ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলার স্বাধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে জাতির পিতা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন । আমাদের উপহার দিয়েছেন স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ ” । তিনি আরও বলেন , জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযােগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে । বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শ্লোগান “ মুজিববর্ষের কূটনীতি , প্রগতি ও সম্প্রীতি ” এবং এবছর জাতীয় শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য “ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন , শিশুর জীবন হােক রঙ্গিন ” উদ্ধৃত করেন তিনি । জাতির পিতা শিশুদের কতটা গভীরভাবে ভালােবাসতেন , শিশুদের সুন্দর ভষ্যিতের জন্য তিনি তার সাড়ে তিন বছরের সরকারে যে সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে গেছেন যা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা । প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে জাতির পিতার সংগ্রামী জীবন সমন্ধে অবহিত করা এবং শিশুকাল থেকেই দেশপ্রেমে উদ্বুদু করার জন্য অভিভাবকসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা ।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন , “ প্রত্যেকের বাড়িই একটি স্কুল , এবং আমরা আমাদের শিশুদের শিক্ষক । শিশুদেরকে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমন্ধে জানানাে আমাদেরই দায়িত্ব ” । স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেট আয়ােজিত জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের আয়ােজনে নিউইয়র্ক প্রবাসী শিশুরা জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ উপস্থাপন এবং বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে যে গভীরতা , অধ্যয়ন , পরিশীলন ও স্বত : স্ফুর্ততা দেখিয়েছে তা সত্যিই বিস্ময়কর মর্মে মন্তব্য করেন স্থায়ী প্রতিনিধি । তিনি শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর লেখা একটি চিঠি পাঠ করে শােনান । নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেছা বলেন , “ বঙ্গবন্ধুর মানবদরদী ও নির্ভীক শৈশবের ইতিহাস , তাঁর মেধা ও প্রজ্ঞা এবং তার জীবনের আদর্শ আমাদের শিশু – কিশােরদেরকে অনুপ্রাণিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে ” । তিনি জাতির পিতার স্বপ্ন ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান । কোভিড -১৯ এর এই সঙ্কটময় প্রেক্ষাপটে স্থানীয় নীতি ও নির্দেশনা , জাতিসংঘ সদরদপ্তরের পরামর্শ ও জাতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী জনস্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সকালের পর্বটি সংক্ষিপ্ত আকারে এবং বিকালের পর্বটি ভার্চুয়ালভাবে আয়ােজন করা হয় । স্থায়ী প্রতিনিধি জানান , পরিস্থিতি স্বাভবিক হলেই যথাযােগ্য মর্যাদায় জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানসমূহ উৎসবমূখর পরিবেশে উদযাপন করা হবে । স্ব স্ব কার্যালয়ে সকালের আয়ােজনে যথাক্রমে স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেটের সকল স্তরের কর্মকর্তা – কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন । বিকালের পর্বে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্ট ( বিপা ) এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস্ ( বাফা ) এর শিশু শিল্পী এবং নিউইয়র্কে বসবাসরত শিশু ও তাদের অভিভাবকসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবর্গ , যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বগণ ভার্চুয়াল শিশু আনন্দমেলায় অংশগ্রহণ করেন । ***