জনগনের সেবক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর তৃতীয় বর্ষ পূর্তি আজ

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর নির্বাচিত হওয়ার তৃতীয় বর্ষ পূর্তি আজ। এক সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেয়া সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার তৃতীয় বর্ষ পূর্তি আজ।

২০১৮ সালের ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে তিনি প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। তার পিতা বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য শান্তিচূক্তি বাস্তবায়ন ও নিরীক্ষন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী) আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে অধুনালুপ্ত বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন।

যোগ্য পিতার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবেই সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ আজ নগর পিতার আসনে অধিষ্ঠিত। দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে আজ অবধি তাকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে।

প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলাসহ মহামারী করোনা প্রতিরোধে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহনের পাশাপাশি করোনাকালীন সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের অধিবাসীদের খাদ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি নজির স্থাপন করেছেন।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই সাদিক আবদুল্লাহ নগর ভবনকে সত্যিকার অর্থে দূর্নীতিমুক্ত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রুপদানের কাজে হাত দেন।

কর্মস্থলে জবাবদিহীতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা ডিজিটালাইজেশন করার পাশাপাশি বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন।

ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি যেমন বেড়েছে তেমনি গ্রাহক হয়রানি বন্ধ, আর্থিক লেনদেন ও অনিয়ম বন্ধ এবং কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ হয়েছে।

তিনি দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ও তাদের উৎসব ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অবসরে যাওয়া ৪০-এর অধিক নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একসাথে সকল অর্থ পরিশোধ করা তার নেয়া একটি যুগান্তরী পদক্ষেপ হিসেবে সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

পূর্বে বেতন-ভাতা না পেয়ে মাসের পর মাস মানবেতর জীবনযাপন করা বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এখন আর বেতন-ভাতার জন্য আন্দোলন করতে হয়না।

মাস শেষে নিয়মিত-অনিয়মিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন তাদের নিজ নিজ একাউন্টে চলে যায়। কোন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে যাতে করে বেতন প্রদান বন্ধ না থাকে সেজন্য তিনি বর্তমান পরিষদের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ সরকারের নেয়া নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

এক্ষেত্রে বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা ভোগীরা যাতে কোন হয়রানি ছাড়াই তাদের ভাতা উত্তোলন করতে পারেন সেজন্য পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন।

মেয়র ইমাম-মুয়াজ্জিমদের জন্য ইমাম ভবন নির্মানের কাজ শুরুর পাশাপাশি বরিশাল নগরীর সকল ইমাম-মুয়াজ্জিমদের মাসিক ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন।

তিনি দায়িত্ব গ্রহনের পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দূর্গাপুজার সময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে দেয়া আর্থিক সহায়তার পরিমান বাড়িয়ে দিয়েছেন।

ঈদের সময় নৌপথে দক্ষিণাঞ্চলে ফেরা মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর নেয়া পদক্ষেপ সারাদেশে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার দিকে তাকিয়ে না থেকে তিনি নগরীর সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন।

নগরীর গুরুত্বপূর্ন সড়কের সংস্কারের পাশাপাশি শাখা সড়ক এবং বর্ধিত এলাকার অনেক কাচা রাস্তা পাকা করা হয়েছে। নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রথমবারের মতো পানি সংযোগের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। মৃতপ্রায় নগরীর খালগুলো উদ্ধার ও পরিচ্ছন্ন রাখতে গৃহীত কাজ বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে।

মশক নিধনে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে প্রায়শই। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নিয়মিত ড্রেন পরিস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এখন তার নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

গৃহস্থালীর বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দক্ষ কর্মীরা রাতদিন ছুটে চলছেন নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।

বিগত বছরের ন্যায় এবছরও পবিত্র ঈদুল আযহার সময়ে জবাই হওয়া পশুর বর্জ্য মেয়রের নির্দেশনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে অপসারিত হয়েছে।

মানবিক মেয়র হিসেবে খ্যাতি লাভ করা সাদিক আবদুল্লাহ দায়িত্ব নেয়ার পর রোগাক্রান্ত এবং অসহায় ও দুস্থদের সাহায্যকৃত অর্থের পরিমান বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এ পর্যন্ত তিনি এক কোটিরও অধিক টাকা অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া মেয়র ব্যক্তিগতভাবে প্রতিনিয়ত অসহায় মানুষদের মেয়ের বিয়ে, সন্তানের পড়ালেখা, চিকিৎসা, ঘর নির্মান, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নিজস্ব অর্থায়নে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সম্মুখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বিশাল আকৃতির দৃষ্টি নন্দন মুড়াল স্থাপন করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বরিশাল নগরীর টর্চার সেল সংরক্ষন ও সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। মুজিব শতবর্ষে দেশের সর্ববৃহৎ মানব লেগো উপস্থাপন করা হয়েছে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে। এসব কারনে জনবান্ধব মেয়র হিসেবে নগরবাসির দোয়া ও ভালোবাসা পেয়েছেন।

প্রচ্ছদবরিশালমানুষ মানুষের জন্য এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
লাইফ সাপোর্টে থাকা অভিনেতা ও নির্মাতা হুমায়ূন সাধু মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। গণমাধ্যমকে ফারুকী বলেন, রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন হুমায়ূন সাধু। সেখানেই তার মৃত্যু হয় গত ২৯ সেপ্টেম্বর হুমায়ূন সাধুর প্রথম ব্রেন স্ট্রোক হয়। তখন তাকে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাকে ১৩ অক্টোবর রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এরপর তাকে বিদেশে নিয়ে অস্ত্রোপচারেরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০ অক্টোবর হঠাৎ সাধুর দ্বিতীয় ব্রেন স্ট্রোক হয়। এরপর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে পথ চলা শুরু হুমায়ূন সাধুর। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটকও নির্মাণ করেছেন তিনি।
৬ years ago