প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় হবে এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ নৌকার জয় হবে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।’
আজ শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমি আপনাদের কাছে নৌকায় ভোট চাই। গত নির্বাচনে যেমন নৌকায় ভোট দিয়েছেন উন্নয়ন হয়েছে, এ নির্বাচনে আপনারা যদি উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে চান, তাহলে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দুই হাত তুলে নৌকায় ভোটদানের ওয়াদা চাইলে জনগণ দুই হাত তুলে সমস্বরে চিৎকার করে ভোট প্রদানের অঙ্গীকার করেন।
দুর্নীতি করলে খালেদাকে শাস্তি পেতেই হবে
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেছেন। কোর্ট রায় দিয়েছেন। সেই রায়ে তিনি কারাগারে। এখানে আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই, আমাদের কিছু করার নেই। দুর্নীতি করলে তাঁকে শাস্তি পেতেই হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, বাংলাদেশকে উন্নত করতে চাই, আমরা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালী করতে চাই। কাজেই আপনারা যখনই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন, আপনারা স্বাধীনতা পেয়েছেন, মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছেন এবং আপনারা দেশের উন্নয়ন পেয়েছেন।’
অফিসে বসে বিরিয়ানি খেয়ে মানুষ পোড়ানোর হুকুম দেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা জানেন নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে কত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। তারা নিজের অফিসে বসে থেকে ঘোষণা দিয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত না করে তিনি (খালেদা জিয়া) নাকি ঘরে ফিরবেন না। প্রায় তিন মাসের কাছাকাছি অফিসে বসে ছিলেন। উনি অফিসে বসে বিরিয়ানি খান আর মানুষ পোড়ানোর হুকুম দেন। প্রায় ৫০০ মানুষকে ওই খালেদা জিয়া আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। এতে আহত হয়েছে আরও প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। তাদের জীবন-জীবিকার কোনো পথ নেই, সব পথ বন্ধ। তারা ধ্বংস করতে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না। মানুষকে বাঁচাতে জানে না, হত্যা করতে পারে।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা উন্নয়নে বিশ্বাস করি আর বিএনপি কী করে? বিএনপির কাজ ছিল সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি। মানুষ হত্যা করা, আগুনে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারা। ওরা যখনই ক্ষমতায় ছিল, সেই জিয়ার আমল থেকে শুরু করে প্রতিবার মানুষ হত্যা ছাড়া আর কিছুই করেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কঠোর হস্তে জঙ্গি দমন করা হয়েছে। খুলনা এখন শান্তির নগরী।’ তিনি মঞ্জুরুল করিম, হুমায়ুন কবির বালু, মানিক সাহাসহ বিএনপি-জামায়াত এবং সন্ত্রাসীদের নির্মমতার শিকার হয়ে খুলনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিসংখ্যানও জনসভায় তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে এসেছিলাম, ওয়াদা করেছিলাম খুলনার সার্বিক উন্নয়নের দায়িত্ব নেওয়ার। আজকে আপনারা দেখেছেন, আমি ১০০টি প্রকল্প যার মধ্যে ৪৮টি উদ্বোধন ও ৫২ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। যে সমস্ত বন্ধ কলকারখানা ছিল, সেগুলো চালু করেছি। জুট মিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন কলকারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুধু তা-ই না, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাস্তাঘাট, পুল-ব্রিজ নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করেছি।’
ভোলার গ্যাস পাইপলাইনে বরিশাল-খুলনায় যাবে
খুলনাবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা সুখবর দিতে চাই। ভোলায় অনেক গ্যাস পাওয়া গেছে। আমরা পরিকল্পনা নিচ্ছি, সেই গ্যাস পাইপলাইনে করে বরিশাল এবং খুলনায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
ইনশা আল্লাহ ২০২১-এ সব ঘরে আলো জ্বলবে
এখন ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন নেই, সেখানে সোলার সিস্টেমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রত্যেক ঘরে ঘরে আমরা আলো জ্বালতে চাই। ইনশা আল্লাহ ২০২১ সালের মধ্যে আমরা সব ঘরে আলো জ্বালব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিজয়ী জাতি, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। সে ধারাতেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও দীপু মনি; সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, সাবেক মেয়র সাংসদ তালুকদার আবদুল খালেক, সাংসদ শেখ হেলাল, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি সালাম মুর্শেদীসহ স্থানীয় সাংসদ এবং আওয়ামী লীগের নেতারা।
খুলনার কর্মসূচিতে অংশ নিতে শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে তিতুমীর নৌঘাঁটির ভিভিআইপি হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। পরে তিনি ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) খুলনা কেন্দ্রে আইইবির ৫৮তম কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
পরপর দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর খুলনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটি দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২০১৫ সালে তিনি খুলনা শিপইয়ার্ডের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রাক্-নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহীর পরে রূপসাপারের খুলনায় জনসভা করলেন।
জনসভাকে কেন্দ্র করে খুলনা শহর পরিণত হয় মিছিলের নগরে। দূরদূরান্ত থেকে হেঁটে মানুষ জনসভাস্থলের দিকে ছোটেন। খুলনার সব পথ এসে মিশে যায় সার্কিট হাউস মাঠে। দুপুরের আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় জনসভাস্থল।