ক’দিন আগেই পদ্মা সেতুর ৩৬তম স্প্যান বসেছে। সাড়ে ছয় কিলোমিটারের সেতুর পাঁচ কিলোমিটারের বেশি এখন দৃশ্যমান। ২০২১ সালে সেতুটির পুরো কাজ শেষ হবে। শুধু মাত্র এই সেতুর কারণেই আমাদের জিডিপি বাড়বে বছরে আরও এক শতাংশ হারে। তখন দক্ষিণ বাংলার দারিদ্র্যও পালাবে। জলবায়ু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া দক্ষিণ বাংলার মানুষ মুখিয়ে আছেন স্বদেশের স্বপ্ন পুরণের সবচেয়ে বড় এই উন্নয়ন অভিযাত্রার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর অপেক্ষায়। এরই মধ্যে ছোট-বড় নানা উদ্যোক্তারা নেমে পড়েছেন নতুন নতুন সব শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পসরা সাজাতে। তাদের জন্য উপযুক্ত বিনিয়োগ পরিবেশ এবং অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। জলবায়ু চ্যালেন্জের শিকার দক্ষিণ বাংলার মানুষের আশা এর ফলে তাদের কর্মসংস্থান বাড়বে, দারিদ্র্য কমবে এবং জীবনের মান উন্নত হবে।
২০১৪ সালে কি প্রতিকূল পরিবেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজের টাকায় পদ্মা সেতুর মতো এই বিরাট অবকাঠামো গড়বার কাজটি শুরু করেছিলেন- দেশবাসীর নিশ্চয় মনে আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সৎ সাহস, জেদ এবং প্রজ্ঞা সেসময় দেখিয়েছেন তা খুব কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক বঙ্গবন্ধুকন্যার সেই সাহসী উদ্যোগের পাশে থাকতে পেরে নিশ্চয় গর্বিত। প্রবাসীরাসহ সারাদেশের মানুষ সে সময়টায় যেভাবে দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন তা সত্যি অতুলনীয়। আজ আবার সে সব কথা এবং স্মৃতি মনে পড়ছে। আর চোখে ভাসছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাথা উঁচু করা সেই অসাধারণ ভঙ্গিটি। আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গড়ার যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখিয়েছিলেন আজ তা তাঁর সুযোগ্য কন্যার হাত ধরে পূরণের পথে।
এভাবেই জোর কদমে এগিয়ে যাক প্রিয় বাংলাদেশ। প্রত্যাশা করছি চলমান করোনা সংকট সত্ত্বেও অর্থনৈতিক মুক্তি সংগ্রামে আমরা বিজয়ী হবো। আমাদের স্বপ্নের মিনার পদ্মা সেতু নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার জন্য রইল প্রাণঢালা অভিনন্দন। বাংলদেশ এগিয়ে চলেছে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণের অভিপ্রায় নিয়ে, বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত ধরে। আসুন আমরা সবাই এই ‘আরেক বাংলাদেশের’ পাশেই থাকি।
লেখক : ড.আতিউর রহমান,
অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর।