সড়কে নিহত একই পরিবারের ৩ঃ ঈদ করতে যাচ্ছিলেন গ্রামে, সঙ্গে ছিল অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী-ছেলে

লেখক:
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করবেন বলে ঢাকা থেকে বাসে করে রওনা হয়েছিলেন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কোলারদোনিয়া গ্রামের সোহাগ (৪০)। তবে কে জানতো এই ঈদের দিনেই নিভে যাবে তাদের সবার জীবনের আলো। তাদের বহনকারী বাসটি গোপালগঞ্জ সদরের বেদগ্রামে পৌঁছালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ সময় প্রাণ হারান সোহাগ, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খাদিজা বেগম ও ছয় বছরের ছেলে আহমদ আলী।

এ দুর্ঘটনায় নিহত অন্যরা হলেন, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সমেশ ঢালীর ছেলে শাওন ঢালী ও একই উপজেলার মাহাবুব শেখের ছেলে শোয়েব শেখ।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপজেলার বেদগ্রাম স্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জনসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন।

বিকেলে খবর পেয়ে নিহত সোহাগের স্বজনেরা গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে মরদেহ বুঝে নিতে আসে। এ সময় কথা হয় সোহাগের চাচতো ভাই রকিবুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার চাচতো ভাই ঢাকায় কাঠের ব্যবসা করতেন। তার বড় ছেলেকে ঢাকায় রেখে পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে কোরবারির জন্য সকালে ঢাকা থেকে পিরোজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ২টার দিকে খবর পাই তারা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। সোহাগের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই, তার ভাইয়েরা ঢাকায় থাকে। তাই আমরা সোহাগ ও তার স্ত্রী-সন্তানের লাশ নিতে এসেছি।

স্থানীয় চেয়ারম্যান হাসনাত ডালিম বলেন, দুপুরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ আমাদের খবর দেয় সোহাগ ও তার স্ত্রী-সন্তান নিহত হয়েছেন। সোহাগের গ্রামের বাড়িতে আপন ভাই বোন কেউ না থাকায় আমরা লাশ বুঝে নিতে এসেছি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পিরোজপুরগামী দোলা পরিবহনের একটি বাস গোপালগঞ্জ বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুত গতির একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে পড়ে। ঘটনাস্থলেই ৫ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও ২৫ জন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় হতাহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।