দিল্লি না ঢাকা, এটা ভুল স্লোগান: সামান্তা শারমিন

লেখক:
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন,“দিল্লি না ঢাকা-স্লোগানটি একটি ভুল রাজনৈতিক স্লোগান। এর পরিবর্তে ‘দিল্লি না বাংলাদেশ’ হওয়া উচিত, কারণ ভারতের সব মানুষ দিল্লির শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে একমত নয়।”

 

 

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির আয়োজনে ‘সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

সামান্তা শারমিন বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত ব্যবসায়িক, পররাষ্ট্রনৈতিক ও অন্যান্য চুক্তিগুলো জনগণের সামনে উন্মুক্ত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণে কিছু তথ্য গোপন রাখার প্রয়োজন হতে পারে, তবে সব ধরনের চুক্তি গোপন রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

 

তিনি বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দিল্লির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনা বা প্রকাশের বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং নতুন কিছু চুক্তিও করা হয়েছে। কেবল মুখে আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করলেই হবে না, চুক্তিগুলো জনগণের সামনে প্রকাশের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে।”

 

এনসিপির এই নেতা বলেন, “৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আনন্দ তার কাছে খুব অল্প সময় স্থায়ী হয়েছিল। এরপরই তিনি উপলব্ধি করেন, একটি জাতিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণে ব্যর্থতার প্রভাব এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান।”

তিনি বলেন, “সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে সীমান্ত হত্যা, পুশইন কিংবা পানি বণ্টনের মতো জাতীয় ইস্যুতে শক্তিশালী সামাজিক ঐকমত্য গড়ে তোলা যাচ্ছে না। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে।”

 

সামান্তা শারমিন বলেন,“সীমান্ত হত্যা, পুশইন এবং তিস্তা অববাহিকার পানির ন্যায্য হিস্যার প্রশ্নে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক আদালতসহ বৈশ্বিক পরিসরে আরো সক্রিয় ও শক্ত অবস্থান নিতে হবে।”

 

এজন্য নতুন ধরনের পররাষ্ট্রনীতি এবং দক্ষ পররাষ্ট্রনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।