জমির আগের সর্বনিম্ন বাজারমূল্য আরও ২ বছর বহাল রাখার নির্দেশ

লেখক:
প্রকাশ: ৪ years ago

জমি কেনা-বেচার ক্ষেত্রে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন মৌজায় সর্বনিম্ন বাজারমূল্য আগামী ২ বছর (২০২১ ও ২০২২ সাল) বহাল রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) এই নির্দেশনা দিয়ে নিবন্ধন অধিদফতর থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিবন্ধন মহা-পরিদর্শক শহীদুল আলম ঝিনুক স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, সম্পত্তির সর্বনিম্ন বাজারমূল্য নির্ধারণ বিধিমালা, ২০১০’ অনুযায়ী বাজারমূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি একটি ক্রমবর্ধমান মূল্য বৃদ্ধি প্রক্রিয়া।

অধিকাংশ মৌজায় সম্পত্তির সর্বনিম্ন বাজারমূল্য নির্ধারণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য বিগত কয়েক বছরে প্রকৃত মূল্যের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বাজারমূল্য প্রকৃত বাজার মূল্যের তুলনায় অনেক কম। অর্থাৎ সর্বনিম্ন বাজারমূল্য বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তব অবস্থাকে প্রতিফলিত করে না।

এতে বলা হয়, বাস্তবক্ষেত্রে প্রতিটি মৌজার অন্তর্ভুক্ত জমির অবস্থান বিবেচনায় মূল্যের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন- কোন মৌজার কোন অংশে বাজার, রাস্তা-ঘাট অথবা স্কুল কলেজ বা অন্যকোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকলে তার আশপাশের ভূমির মূল্য একই মৌজার সম-শ্রেণিভুক্ত অন্যান্য জমির তুলনায় অধিক হয়ে থাকে।

কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি মৌজার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি শ্রেণির অবস্থান নির্বিশেষে সমস্ত জমির মূল্য একই হারে নির্ধারিত হয়, যা বাস্তব ভিত্তিক নয়। সমস্যাটি সমাধানের লক্ষ্যে প্রতিটি মৌজার অন্তর্ভুক্ত জমিসমূহের অবস্থানগত প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে মৌজা সমূহকে গুচ্ছ বা ক্লাস্টারে বিভক্ত করে জমির বাস্তবভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ করা একান্ত আবশ্যক।

‘বর্তমানে দেশব্যাপী কোভিড-১৯ ভাইরাসজনিত অতিমারি পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকায় সামগ্রিক অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ায় জনগণের ক্রয় ক্ষমতা কমেছে। অন্যদিকে আবশ্যকতা থাকা সত্ত্বেও কিংবা অতি জরুরি প্রয়োজনেও নাগরিকরা জায়গা জমি বিক্রি করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।’

সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘সম্পত্তির সর্বনিম্ন বাজার মূল্য নির্ধারণ বিধিমালা, ২০১০’ অনুযায়ী প্রণীত ২০১৭ ও ২০১৮ সালের জন্য প্রযোজ্য বাজারমূল্য তালিকা পরবর্তী ২ বছরের (২০২১ ও ২০২২ সাল) জন্য বহাল রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরিপত্রে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সর্বনিম্ন বাজার মূল্য নির্ধারণ কমিটিকে নিজ নিজ এখতিয়ারাধীন এলাকায় বাস্তবতার নিরিখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সেবা গ্রহণকারী নাগরিকদের সাথে যৌথভাবে মতবিনিময় করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে গুচ্ছ ভিত্তিক সর্বনিম্ন বাজারমূল্য নির্ধারণ করে নিবন্ধন অধিদফতরে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

জাতীয়প্রচ্ছদরাজনীতি এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
কমলাপুর রেলস্টেশনের ঘাস নিয়ে লাইভ করার পর এবার ট্রেনে ওঠার সময় নারী ও বৃদ্ধাদের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফের ফেসবুক লাইভ করলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও বাচ্চাদের নিয়ে যারা রেলে চলাফেরা করেন তাদের প্রতি কি একটু সহায় হবেন- এমন আহ্বান জানান তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ যদি বউ-বাচ্চা, বৃদ্ধা মা-বাবাকে নিয়ে ট্রেনে উঠতে চান তা হলে বউ থাকবে কই আর মা-বাবা থাকবে কই। শুক্রবার (৫ জুলাই) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ফেসবুকে লাইভে এসে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার সুমন। লাইভে এসে প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনে ওঠার সিঁড়ির দূরত্ব দেখিয়ে সুমন বলেন, ‘এই ট্রেনটাকে মিটার গেজ (পরে সংশোধন করে বলেন ব্রডগেজ) বলা হয়। আমার প্রশ্ন হলো-প্ল্যাটফ্রম থেকে দূরত্ব বা উচ্চতা কত? ব্রিটিশ আমলের ট্রেনগুলো ছিল এমন। আপনারা (রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ) নতুন ট্রেন আনলেন কিন্তু প্ল্যাটফর্ম এখনো পুরনো।’ রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত লোকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখেন সবাই, প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনের উচ্চতা দোতলার সমান। কোনো স্টেশনে ট্রেনটি তিন মিনিট থামে। তিন মিনিটে ৫০ জন মানুষ প্রায় দুই তলার সমান উচ্চতায় ওঠা কি সম্ভব?’ রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘রেলমন্ত্রী, ট্রেন আপনি অনেক উঁচু বানিয়ে দিছেন। আর প্ল্যাটফর্ম এখানে বিট্রিশ আমলের। আমি কমলাপুর সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে বলছি। আর গ্রামের স্টেশনগুলোর অবস্থা তো আরও খারাপ। সেখানে ট্রেনে উঠতে তো রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। বউ বাচ্চা নিয়ে ওঠা একটা বে-ইজ্জতের কারবার।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুনিয়া এগোচ্ছে, সব কিছু এগোচ্ছে। রাতারাতি পরিবর্তন করতে পারবেন না। তবে ব্রেইনে আনেন পরিবর্তন করার। আপনারা বউ-বাচ্চা লইয়া ট্রেনে যাতায়াত করবেন কি-না জানি না। তবে, এই প্ল্যাটফর্ম ট্রেনের সমান করতে কোটি কোটি টাকার দরকার পড়বে না। আশা করি রেলমন্ত্রীসহ সকলেই এর প্রতি সদয় হবেন।’ এর আগে (৩০ মে) ব্যারিস্টার সুমন স্টেশনের সামনে রেললাইনের ওপর বেড়ে ওঠা ঘাস কেটে পরিচ্ছন্ন করার অনুরোধ জানিয়ে তার নিজের ফেসবুক পেজে লাইভ দেন। এর পরদিনই (শুক্রবার) সেসব ঘাস কেটে পরিষ্কার করে ফেলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর জন্য ট্রেনে তুলে দিতে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সেখানে তিনি দেখেন, রেললাইনের ওপর বড় বড় ঘাস জন্মেছে। যা কাটার জন্য কারো সময় নেই। ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘রেলের সময় নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। মোটামুটি ভালোই চলতেছে। এজন্য রেল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।’ ওই লাইভে তিনি আরও বলেন, এটা দেশের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশন। এটা কেন্দ্রীয় রেল স্টেশন। এ সময় তিনি এক হাত লম্বা লম্বা ঘাস দেখিয়ে বলেন, ‘কিছু লোক লাগিয়ে ঘাসগুলো পরিষ্কার করলে স্টেশনটা অনেক সুন্দর হয়ে যেত।’
৬ years ago