এক দফা এক দাবীতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বারকলিপি প্রদান

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

শামীম আহমেদ ॥ এক দফা এক দাবী ভিসি তুই কবে যাবি। ভিসি’র পদত্যাগ ছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি নাই এই শ্লোগান নিয়ে আন্দোলনের সপ্তম দিনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এস এম ইমামুল হকের পদত্যাগ দাবী করে বিভিন্ন ব্যানার প্লাকার্ড ফেস্টুন নিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে।
আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ভিসি পদত্যাগ না করলে আমরণ অনশনসহ কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক দপ্তদরের প্রবেশ পথের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
পরে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাস্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর ভিসির বিরুদ্ধে আনা ২৫টি অভিযোগ সম্বিলিত স্বারকলিপির প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা।

আজ (১লা এপ্রিল) সোমবার সকালে সপ্তমদিনে প্রতিদিনের ন্যায় তারা বিশ্বক্ষদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে।পরে তারা বেলা সাড়ে বারটায় নগরীর জেলা প্রশাসকের দপ্তর সামনের সড়কে বসে অবস্থান নিয়ে ভিসির পদত্যাগ দাবী করে বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়া সহ গন স্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করে।

বেলা সোয়া একটায় জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান তার দপ্তর কক্ষ থেকে নিছে নেমে আসলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের নিকট ভিসির বিরুদ্ধে স্বৈরাতান্ত্রিক অত্যাচারে জর্জরিত তার প্রতিটি পদক্ষেপ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও ছাত্র স্বার্থের পরিপন্থি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মিনি ক্যান্টনমেন্ট পরিণত করেছে। তারা স্বারকলিপিতে আরো অভিযোগ করেন গত তিন বছর যাবত ভিসি জাতীয় দিবসগুলোতে ছাত্রদের সংযুক্তি ছাড়াই ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী আয়োজন করে আসছে। এছাড়া তার দায়ীত্ব পালনকালীন সময়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের উপর নিস্পেষন, নির্যাতন স্টিম রোলার চালিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তুলেছেন দূর্নীতির আতুড়ঘড়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবহার করছেন তার স্বার্থ রক্ষা করাসহ ভিসির বিরোদ্ধে এধরনের ২৫টি অভিযোগ এনে রাস্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বারকলিপি প্রদান করেন।

এসময় জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে বরিশালের সুশিল সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেনী মানুষের সমর্থন রয়েছে।শিক্ষার্থী তোমরা যারা রয়েছো এমন কিছু করবে না যাতে করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।
আমরা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বরিশাল সিটি মেয়রসহ এ বিষয়ে আমরা তোমাদেরকে একটি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য কাজ করার আশ্বাস প্রদান করে।

এসময় আন্দোলনরত গনিত বিভাগের ফাইনাল ইয়ার শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ সিফাত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ভিসি পদত্যাগ না করেন তাহলে আমরণ অনশন কর্মসূচিসহ কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত তিনদিন যাবত ডাইনিং বন্ধ করে দেয়ার কারনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে বসে কেউ খেতে পারছে আবার অনেকে না খেয়ে আছেন এত করে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রতিবাদ করায় ভিসি ড. এসএম ইমামুল হক শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেন। এর প্রতিবাদে গত ২৬ মার্চ থেকে শিক্ষার্থীরা লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন শুরু করেন। এরই মধ্যে ২৮ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। ঘটনার ধারবাহিকতায় শুক্রবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাতে দুঃখ প্রকাশ করে ভিসি ড. এসএম ইমানুল হকের পক্ষে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে দুঃখ প্রকাশ করে ভিসির দেওয়া বক্তব্য ও আহবান প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ভিসি তার বক্তব্যের মাধ্যমে মিথ্যাচার করেছেন বলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।