#

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রোগীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার হাসপাতালগুলো। ধারণ ক্ষমতার বেশি হয়ে যাওয়ায়, হাসপাতালে রোগীদের সংকুলান হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে রোগীদের ফিরিয়ে দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক ২৯ বছর বয়সী মিনান্তি বলেন, ‘আমার বাবার ডায়াবেটিস রয়েছে, কিডনি রোগেও আক্রান্ত। করোনা আক্রান্ত রোগী হিসেবে তার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যাপ্ত চিকিৎসার জন্য আমরা তাকে বাড়ির কাছে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ইউনিটে ভর্তির জন্য নিয়েছিলাম। কিন্তু সেখান থেকে আমাদের বলা হয়, চারপাশে তাকিয়ে দেখো, হাসপাতালে রোগী রাখার কোন জায়গা নেই। তারা জানায় হাসপাতালে অক্সিজেনের ঘাটতি রয়েছে।’

 

মিনান্তি আরও বলেন, আমরা জাকার্তার অন্য একটি হাসপাতালে যাই, সেখানেও আমাদের বলা হয় সিট নেই। হাসপাতালের বারান্দায় তাবু বিছানো অস্থায়ী ইউনিটগুলোও  রোগীতে ভরা। সব দেখে আমরা ভয় পেয়ে গেছি। এরপর থেকেই বাবাকে বাসায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমরা ব্যক্তিগতভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহ করেছি। প্রথমে আমরা একটি সিলিন্ডার ধার নিয়েছিলাম, কিন্তু দ্রুত আমাদের কাছ থেকে তা ফেরত চাওয়া হয়, কারণ যিনি ধার দিয়েছিলেন তিনিও করোনায় আক্রান্ত।

মিনান্তি বলছিলেন, অক্সিজেন সিলিন্ডার যোগাড় করা এখন অনেক কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা ভাগ্যবান যে একটি উৎস হতে সিলিন্ডার কিনতে পেরেছি। তবে সময়মত ট্যাঙ্ক ভরাট করতে অনেক ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে।

মিনান্তির মতো বহু ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক এমন বেহাল অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রতিনিয়ত তারা অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন শুধুমাত্র পরিবারের মানুষগুলোকে বাঁচানোর তাগিদে। অক্সিজেন সিলিন্ডার না পাওয়ায় হতাশ হয়ে একটার পর একটার প্রতিষ্ঠান এবং দোকানে ঘুরপাক খাচ্ছেন।

 

ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। লেমাহ হাবাং নামের হেলথ ক্লিনিকের প্রধান ডা. এরনি হারদিয়ানি বলেন, ‘আমাদের অক্সিজেন ট্যাংক প্রয়োজন। রেমিডেসিভির মতো মেডিসিন প্রয়োজন। আমরা এগুলো সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হচ্ছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকারের কাছে আর্জি জানাচ্ছি আমাদের ক্লিনিকগুলোতে মেডিসিন ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করতে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত সংখ্যা নিয়ে সরকার খামখেয়ালীপনা দেখাচ্ছে।’

ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ডা. সিতি নাদিয়া তারমিজি বলেন, অক্সিজেন সংক্রান্ত ইস্যু আমরা ইতোমধ্যেই সমাধান করেছি। আমাদের সামগ্রিকভাবে অক্সিজেনের কোনো ঘাটতি নেই। ধারণ ক্ষমতার বেশি রোগী হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে হঠাৎ করেই অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছে। আমরা আমাদের সরবরাহ প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর করার চেষ্টা চালাছি। আগে ২-৩ দিন সময় ব্যয় হতো, এখন ১২-২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা সিলিন্ডারগুলো পৌঁছে দিতে নির্দেশনা দিয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে যা আমরা কল্পনাও করিনি। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স সময় মত না পৌঁছাতে পারা এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় রোগীরা বাড়িতেই কিংবা পথেই মারা যাচ্ছেন। আমরা আগে কখনই এমন পরিস্থিতি দেখতে পাইনি। তবে সরকার নাগরিক সেবায় আরও বেশি মনোযোগী হচ্ছে।’

 

Facebook Comments

উত্তর দিন

Please enter your comment!
এখানে আপনার নাম লিখুন